নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ৮ মে :
ধর্মনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনে জয়ের পর শহরের সাম্প্রতিক অশান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক জহর চক্রবর্তী। মঙ্গলবার ভারতীয় জনতা পার্টি-র উত্তর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধর্মনগরের শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইন নিজের গতিতে চলবে, দোষীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
এই সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির উত্তর জেলা সভাপতি কাজল দাস এবং ধর্মনগর মণ্ডল সভাপতি শ্যামল নাথ।
শুরুতেই জহর চক্রবর্তী উপ-নির্বাচনে বিপুল সমর্থনের জন্য ধর্মনগরবাসীকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জয়ের আবহকে কেন্দ্র করে শহরের কিছু এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ উঠছে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি সরাসরি সতর্ক করে বলেন, বিজেপির নাম ব্যবহার করে যদি কেউ দাদাগিরি, হামলা বা ভাঙচুরের রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলও এমন কাউকে প্রশ্রয় দেবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।
বিধায়কের বক্তব্য, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিন বিজেপি যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি রাহুল কিশোর রায়-এর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। জহর চক্রবর্তীর দাবি, ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে বিজেপি এবং তাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, রাহুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
জহর চক্রবর্তী আরও বলেন, “বিজেপি কখনও অসামাজিক কার্যকলাপকে সমর্থন করে না। যারা এ ধরনের ঘটনায় জড়িত, তারা দলের আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না।”
অন্যদিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে কাজল দাস ও শ্যামল নাথও ধর্মনগরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তবে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে, কারণ রাহুল কিশোর রায়ের স্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক বক্তব্যে জহর চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সেই আবহে বিধায়কের এই কড়া বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।



















