হায়দরাবাদ, ৮ মে(আইএএনএস): তেলঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল জেলায় কাকাতিয়া আমলের প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো একটি শিব মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছে।
বিআরএস-এর কার্যকরী সভাপতি কে. টি. রামা রাও শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, তেলঙ্গানার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব সম্পর্কে যাদের কোনও ধারণাই নেই, সেই নির্বোধদের শাসন চলছে রাজ্যে। ওয়ারাঙ্গল জেলার খানাপুর মণ্ডলের অশোকনগরের কাছে কাকাতিয়া রাজাদের তৈরি ৮০০ বছরের পুরনো শিব মন্দিরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যে রেভন্ত সরকার হাজার হাজার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে ফেলেছে, তারা এখন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যও রেহাই দিচ্ছে না। অবিলম্বে এই ধ্বংস বন্ধ করে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে।”
অন্যদিকে, তেলঙ্গানা বিজেপিও এই ঘটনায় কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছে। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কংগ্রেসের ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি অবহেলা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। কাকাতিয়া সম্রাট গণপতি দেবের আমলে নির্মিত এই মন্দির তেলঙ্গানার ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতীক ছিল, অথচ আজ তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।”
বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের সুরক্ষাধীন থাকা সত্ত্বেও মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দলটি আরও দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি-র আমলে সরকারি সুরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলিও নিরাপদ নয়।
জানা গিয়েছে, একটি ইন্টিগ্রেটেড স্কুল নির্মাণের জন্য বুলডোজার দিয়ে মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে বলে খবর।
আইনজীবী রামা রাও ইম্মানেনি জাতীয় স্মারক কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরটিতে ১২৩১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিরল তেলুগু শিলালিপি ছিল। সাত লাইনের ওই শিলালিপি ১৯৬৫ সালে হেরিটেজ বিভাগ নথিভুক্ত করেছিল।
এছাড়াও, মন্দির চত্বরটি ঐতিহাসিক “কোটা কাট্টা” কাদামাটির দুর্গ এলাকার অংশ ছিল, যা প্রাচীন জলাশয় ও দুর্গ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত বলে জানা গেছে।



















