নয়াদিল্লি, ৮ মে (আইএএনএস): তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল অভিনেতা-রাজনীতিক সি. জোসেফ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাঝাগম (টিভিকে)। রাজ্যপাল আর. ভি. আরলেকরের বিরুদ্ধে সরকার গঠনের দাবিতে পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছে দলটি।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া মামলাটি ডায়েরি নম্বর ২৮৫০৯/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আদালতের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এঝিলারাসি কে নামে এক আবেদনকারী এই মামলা দায়ের করেছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও কিছুটা দূরে রয়েছে। তবে কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই(এম)-এর সমর্থন পাওয়ার পর বিজয় শিবিরের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই তিনটি দলই ডিএমকে নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল জোটের অংশ ছিল।
চেন্নাইয়ে এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক এম. বীরপান্ডিয়ান এবং সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি. শানমুগম টিভিকেকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। তবে তাঁরা স্পষ্ট করে দেন, সম্ভাব্য টিভিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় তাঁরা যোগ দেবেন না এবং বাইরে থেকেই সমর্থন করবেন।
কংগ্রেসের সমর্থনে টিভিকের বিধায়ক সংখ্যা প্রথমে ১১২-তে পৌঁছয়। পরে দুই বাম দলের দু’জন করে মোট চার বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের দফতর বিজয়কে জানিয়েছে যে, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের তালিকা জমা দেওয়ার পরেই সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
এর আগে বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে রাজ্যপাল নাকি তাঁকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বিধানসভায় পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব নয়। পরবর্তী সময়ে বুধবার ফের রাজ্যপালের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন বিজয়। বৈঠকের পর রাজ্যপালের দফতরের তরফে জানানো হয়, টিভিকে প্রধান স্বীকার করেছেন যে বর্তমানে তাঁর দলের এককভাবে সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা নেই।
সরকার গঠনের জন্য এখন টিভিকের প্রয়োজন অন্তত আরও দুই বিধায়কের সমর্থন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের অবস্থান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে চেন্নাইয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। বিভিন্ন দল নিজেদের কৌশল নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক করছে। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের শীর্ষ নেতৃত্বও পরিস্থিতি নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েকদিনই ঠিক করে দেবে তামিলনাড়ুর পরবর্তী সরকারের রূপরেখা ও স্থায়িত্ব।



















