কলকাতা, ৮ মে (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি বিধায়ক দল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেছে। এর ফলে রাজ্যে সরকার গঠনের পথ সম্পূর্ণভাবে প্রশস্ত হল। আগামী শনিবার, ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নবনির্বাচিত বিধায়ক ও শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানান।
অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সহিংসতা ও ভয়ভীতির পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের মানুষ বিজেপির উপর আস্থা রেখেছেন। তাঁর কথায়, বাম আমল থেকে যে রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আরও গভীর করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানে ভোট দেওয়াই প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলার মানুষ বিজেপি ও আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির উপর ভরসা রেখে ঐতিহাসিক জয় উপহার দিয়েছেন।
সম্প্রতি সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবসান ঘটায়। দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপির এই জয়কে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেন, যার ফলে নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সন্ধ্যাতেই লোক ভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর. এন. রবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং রাজ্যে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন। সূত্রের খবর, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শনিবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাজ্যপাল নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একযোগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম এবং দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর — এই দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথমবার ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা অর্জন করেছিলেন শুভেন্দু। এবারের জয়ের মাধ্যমে তিনি ফের একবার তৃণমূল নেত্রীকে পরাস্ত করে রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দলের সর্বসম্মত নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করলেন।



















