ইম্ফল, ৮ মে (আইএএনএস): ভারত-মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন মণিপুরের কামজং জেলায় জঙ্গি হামলার পর শুক্রবারও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে টহলদারি ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে অসম রাইফেলস।
প্রতিরক্ষা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহেন্দ্র রাওয়াত জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে জে চোরো এবং নামলির বিপরীত এলাকায় প্রবল গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, অতি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও অসম রাইফেলস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধে ব্যবস্থা নেয়। অভিযানের সময় একাধিক উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি বাড়ি নিরাপত্তার আওতায় আনা হয় এবং আটকে পড়া বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
অসম রাইফেলস সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলা ও শিশুসহ মোট ১৫ জন গ্রামবাসীকে নিরাপদে উদ্ধার করে আলোয়ো অসম রাইফেলস ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁদের মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়াও নামলির এক মায়ানমারের মহিলাকে তৎক্ষণাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নতুন করে হিংসা ছড়ানো রুখতে অসম রাইফেলস দ্রুত এলাকা তল্লাশি ও স্যানিটাইজেশন অভিযান চালায়। অভিযানের সময় এক সশস্ত্র জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাওয়াত বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে অসম রাইফেলস সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উল্লেখ্য, মণিপুরের চুরাচাঁদপুর, তেংনৌপাল, চান্দেল, কামজং এবং উখরুল — এই পাঁচটি জেলার সঙ্গে মায়ানমারের ৩৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
এদিকে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিংও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, কামজং জেলার নামলি, জে চোরো এবং ওয়াংলি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে সংঘটিত হিংসার ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, পরিস্থিতির উপর তিনি কড়া নজর রাখছেন এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকার সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে কামজং জেলার কয়েকটি গ্রামে কুকি জঙ্গি সংগঠনের সন্দেহভাজন সশস্ত্র জঙ্গিরা হামলা চালায়। জঙ্গিরা কাসোম খুলেন থানার অন্তর্গত টাংখুল নাগা অধ্যুষিত নামলি, ওয়াংলি ও চোরো গ্রামকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং আতঙ্কে গ্রামবাসীরা জঙ্গলে পালিয়ে আশ্রয় নেন।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আক্রান্ত পাহাড়ি গ্রামগুলি ভারত-মায়ানমার সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। হামলার সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে খিন হ্টওয়ে ইয়েই নামে এক বৃদ্ধা আহত হন বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনার পরপরই অসম রাইফেলস-সহ নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান শুরু করে।



















