কলকাতা, ৮ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনতার পর প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর নিজের প্রথম ভাষণেই সম্মিলিত নেতৃত্বের উপর জোর দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নতুন সরকার কোনও একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নয়, বরং যৌথভাবে পরিচালিত হবে।
শুক্রবার বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, আমি একা নতুন সরকার চালাব না। আমরা সবাই মিলে সরকার চালাব।
এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে সদ্য নির্বাচিত বিজেপির ২০৭ জন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, “সম্মিলিত নেতৃত্ব”-এর বার্তার মাধ্যমে শুভেন্দু পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা পূর্ববর্তী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক ধাঁচে চলবে না। অভিযোগ ছিল, আগের সরকারের ক্ষেত্রে ছোট-বড় প্রায় সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হত না।
নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, গত ১৫ বছরে যারা অবিচার ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত জনপরিষেবা প্রদানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে।
এর আগে বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে বিপুল আস্থা রেখে বিজেপিকে জয়ী করেছেন, সেই বিশ্বাস যেন কোনওভাবেই ভঙ্গ না হয়।
অমিত শাহ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এখানে ভয়ের পরিবেশ ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাদের নেতাদের উপর ভরসা রেখে যে জয় দিয়েছেন, তার জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যে আশা নিয়ে আপনাদের ক্ষমতায় এনেছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। মানুষের বিশ্বাস যেন কখনও ভেঙে না যায়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য আমাদের সেরাটা দিতে হবে।



















