কলকাতা, ৯ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই নিজেকে এক সংযত রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকায় তুলে ধরলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি জানালেন, এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা, তাই রাজনৈতিক সমালোচনায় সময় নষ্ট করতে চান না।
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-কে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “বাংলা ইতিমধ্যেই অনেক ক্ষতির মুখ দেখেছে। রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি অনেকটাই নষ্ট হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এখন আমার দায়িত্ব পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করা। সেই দায়িত্ব অত্যন্ত বড়। তাই অন্যের সমালোচনা করার মতো সময় এখন আমার নেই।”
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন।
শুভেন্দুর কথায়, “যাঁরা সমালোচনা করতে চান, তাঁরা করতে থাকুন। তবে আমি চাই মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক, বিশেষ করে যাঁরা এখনও বাংলার নির্বাচনী ফল নিয়ে সমালোচনা করছেন।”
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারাকে তিনি নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমি গুরুদেবের কাছে প্রার্থনা করেছি এবং তাঁর আশীর্বাদ চেয়েছি।”
কবিগুরুর বিখ্যাত পংক্তি — “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” — তাঁর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী, পশ্চিমবঙ্গ এখন উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপি নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতা।



















