নয়াদিল্লি, ১১ মে(আইএএনএস): বিদেশ মন্ত্রকের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ফ্যাক্ট-চেকিং হ্যান্ডেল সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর দাবিকে কঠোরভাবে খারিজ করেছে। মন্ত্রকের দাবি, ভারতের বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক-র ফ্যাক্ট-চেক হ্যান্ডেল “ফেক নিউজ অ্যালার্ট” জারি করে জানায়, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর মধ্যে ফুজাইরাহ বন্দর হয়ে ভারতীয় নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনও ধরনের চুক্তি বা পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষাধিক ভারতীয় শ্রমিককে ফুজাইরাহ বন্দরের মাধ্যমে সরিয়ে আনার জন্য যৌথভাবে একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, “এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনও ধরনের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে না। এ ধরনের মিথ্যা ও ভুয়ো দাবির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন।”
বিদেশ মন্ত্রক আরও জানায়, ফুজাইরাহ বা অন্য কোনও বন্দর ব্যবহার করে ভারতীয়দের সরিয়ে নেওয়া নিয়ে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-র মধ্যে কোনও আলোচনা বা সমঝোতা হয়নি।
অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক একটি ‘ডিপফেক ভিডিও অ্যালার্ট’ও জারি করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি AI-নির্মিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল-কে ভুয়োভাবে এমন কিছু মন্তব্য করতে দেখা যায়, যা তিনি কখনও করেননি।
ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে ভারত রাফাল যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করেছে এবং পাকিস্তানে জল সরবরাহ নিয়েও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্টভাবে জানায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এটি একটি এআই-জেনারেটেড ভিডিও, যার উদ্দেশ্য বিভ্রান্তি ছড়ানো। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের ভুয়ো ভিডিও ও কনটেন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।”
এদিকে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো-এর ফ্যাক্ট-চেক ইউনিটও ভিডিওটিকে ডিজিটালি বিকৃত বলে নিশ্চিত করেছে। পিআইবি নাগরিকদের অনুরোধ করেছে, যাচাই না করে কোনও তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করতে।
পিআইবি আরও জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের ব্রিফিংয়ের আসল ও সম্পাদনাহীন ভিডিও সরকারি প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ রয়েছে এবং সেখানে এমন কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তান-ভিত্তিক একাধিক প্রোপাগান্ডা অ্যাকাউন্ট এই ভুয়ো ভিডিও ও মনগড়া শিরোনাম ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত, যার লক্ষ্য ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা।
কর্তৃপক্ষ আবারও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও খবর বা ভিডিও শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে।



















