তিরুবনন্তপুরম, ১৪ মে (আইএএনএস) : কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পদে মনোনীত হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় কৃতজ্ঞতা, নম্রতা এবং রাজনৈতিক বার্তার মিশেল তুলে ধরলেন সতীশন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফের বিপুল জয় কোনও একক নেতার সাফল্য নয়, বরং “টিম ইউডিএফ” এবং লক্ষ লক্ষ দলীয় কর্মীর সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল।
কংগ্রেস হাইকম্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাথীসন দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, “কংগ্রেস আমাকে বিশাল দায়িত্ব দিয়েছে। এজন্য আমি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে এবং রাহুল গান্ধী-র কাছে কৃতজ্ঞ।”
দলের অন্দরের সমীকরণে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাথীসন প্রকাশ্যে কৃতিত্ব দেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং নির্বাচনী প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান-কে। চেন্নিথলাকে তিনি নিজের “নেতা” বলেও উল্লেখ করেন।
সাথীসন বলেন, “এই জয়ের পেছনে মূল ভূমিকা রয়েছে কে.সি. বেণুগোপাল এবং রমেশ চেন্নিথলার। আমি তাঁদের সঙ্গে এবং রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি-এর সঙ্গে মিলেই কাজ করব।”
তিনি বারবারই যৌথ নেতৃত্ব এবং মানুষের অংশগ্রহণের উপর জোর দেন। তাঁর কথায়, “একজন মানুষ একা কিছুই করতে পারে না। আমরা সবাই মিলে নতুন কেরল গড়ে তুলব।”
সাথীসন জানান, নির্বাচনী প্রচারে ইউডিএফ যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে নতুন সরকার। তিনি বলেন, “কেরলের সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নতুন কেরল গড়তে আমি মানুষের সাহায্য ও সমর্থন চাই।”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদকে “ঈশ্বরপ্রদত্ত দায়িত্ব” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তাঁর সরকার “জনজীবনের নতুন অধ্যায় রচনা করবে।”
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন তিনি। সাথীসনের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় লজ্জার কিছু নেই, কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি বিধায়ক ও প্রবীণ নেতার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।
শপথ গ্রহণ এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে তিনি জানান, জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে দলীয় নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেই শপথ গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হবে।



















