নয়াদিল্লি, ১৪ মে (আইএএনএস) : পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা সঙ্কট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর-সহ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় বক্তব্য পেশ করে জয়শঙ্কর বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। অব্যাহত উত্তেজনা, সামুদ্রিক পরিবহণের ঝুঁকি এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর আক্রমণ পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাকেই তুলে ধরছে।”
তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগর-সহ আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপদ ও বাধাহীন সামুদ্রিক চলাচল বিশ্ব অর্থনীতির সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।”
বিদেশমন্ত্রী রাষ্ট্রসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির প্রতি ভারতের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্য, “সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। সংলাপ ও কূটনীতিই সংঘাত সমাধানের একমাত্র স্থায়ী পথ।”
একইসঙ্গে তিনি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের অবস্থাই সবচেয়ে চিন্তার বিষয়। তিনি বলেন, “সংস্কারকৃত বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় শ্রেণিতেই সংস্কার জরুরি।”
বৈঠকের উদ্বোধনী ভাষণে জয়শঙ্কর বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক অস্থির সময় চলছে। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং জলবায়ু সঙ্কট বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে আশা বাড়ছে যে ব্রিকস একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল ভূমিকা নেবে।
এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার বিদেশমন্ত্রী-সহ একাধিক ব্রিকস সদস্য দেশের প্রতিনিধি।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরে বুধবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি। তাঁর সঙ্গে জয়শঙ্করের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে বর্তমান সঙ্কট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আরাঘচি যে বিমানে ভারতে এসেছেন, তার নাম ছিল ‘Minab168’। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৬৮ জন ছাত্রীকে স্মরণ করেই এই নামকরণ করা হয়েছে।
এদিকে, ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, ব্রিকসের মতো মঞ্চে সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রকৃত বহুপাক্ষিকতা এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি জানান, ইরান তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, জ্বালানি সম্পদ, বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ও মানবসম্পদ দিয়ে ব্রিকসের উন্নয়নমূলক এজেন্ডায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহণ হয়। ফলে এই জলপথে কোনও বাধা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



















