চেন্নাই, ১৪ মে (আইএএনএস): ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে ঐক্য, আত্মসমালোচনা এবং বড় সাংগঠনিক সংস্কারের ডাক দিলেন ডিএমকে সভাপতি ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের দলীয় সদর দফতর আন্না আরিভালয়মে অনুষ্ঠিত জেলা সম্পাদকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্টালিন বলেন, পরাজয়ের পর দোষারোপের রাজনীতিতে কোনও লাভ নেই।
তিনি বলেন, একজন আরেকজনকে দোষ দিচ্ছেন, আঙুল তুলছেন। এভাবে চলতে থাকলে এর কোনও শেষ থাকবে না। জয়ের কৃতিত্ব যখন আমি নিই, তখন পরাজয়ের দায়ও আমার নেওয়া উচিত। এতে কোনও ভুল নেই, এটাই ন্যায্য। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে জোটের কাছে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল জোট ক্ষমতা হারানোর পর এই বৈঠক ছিল দলের প্রথম বড় সাংগঠনিক সমাবেশ।
টিভিকের আকস্মিক উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্টালিন একে “নতুন ও আকর্ষণীয় ম্যাজিক সুনামি” বলে উল্লেখ করেন, যা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, সুনামি বলতে আমি কোনও সাফল্য বা রোমাঞ্চ বোঝাচ্ছি না। আমি বলতে চাইছি এটি বিরাট ক্ষতি করেছে। তামিলনাড়ুর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একইসঙ্গে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, মানুষকে এই সুনামি থেকে উদ্ধার করতে” সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
স্টালিন জোর দিয়ে বলেন, এই পরাজয় শুধুমাত্র একটি “নির্বাচনী ধাক্কা”, ডিএমকের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সমাপ্তি নয়। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে মানুষের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।
দলের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে স্টালিন বলেন, আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে প্রত্যেক কর্মীর অবদান সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, একটি ভবন তার সমস্ত স্তম্ভের উপর ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে। সবাই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, যারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চান না, তারা সরে দাঁড়াতে পারেন।
দলের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার জন্য বড় উদ্যোগের ঘোষণাও করেন স্টালিন। তিনি জানান, পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করতে দলীয় সদর দফতরের তরফে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালানো হবে। একটি বিশেষ কমিটি তামিলনাড়ু সফর করে আগামী ২০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবে।
এছাড়াও শুক্রবার থেকে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। সেখানে দলীয় কর্মী ও সমর্থকেরা পরাজয়ের কারণ এবং দলের কাঠামোয় কী পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়ে মতামত জানাতে পারবেন। ডিএমকের ভিতরে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত দিয়ে স্টালিন বলেন, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে “কঠোর পরিবর্তন” আনা হবে। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, সূর্য কখনও চিরদিনের জন্য অস্ত যায় না। সে আবারও উদিত হবে।



















