তিরুবনন্তপুরম, ১৪ মে (আইএএনএস): কংগ্রেস হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত ভি.ডি. সাথীশানকে কেরালার ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়ার পর তিনি আইএএনএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্ব তিনি কেরালার মানুষের উদ্দেশেই উৎসর্গ করছেন।
আইএএনএস-কে সাথীশান বলেন, এই বিশাল দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করার জন্য আমি এআইসিসি নেতৃত্বের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আমি আমার মুখ্যমন্ত্রিত্ব কেরালার মানুষের উদ্দেশেই উৎসর্গ করছি। আমরা এমন একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলব, যারা কেরালার ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবে।
কংগ্রেস নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সাথীশান বলেন, এটিকে বিলম্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
তিনি বলেন, আমি এটাকে বিলম্ব বলতে পারি না। এটা একটি প্রক্রিয়া। আগে এত তীব্র মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার নজরদারি ছিল না। অনেক সময় ভুয়ো খবরও ছড়িয়ে পড়ে। নেতৃত্ব প্রাক্তন পিসিসি সভাপতি, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য, বিধায়ক এবং সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
কেরালার আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সাথীশান বলেন, কেরালার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় আমরা এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছি, নথি প্রস্তুত করেছি এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বিরোধী দল নির্বাচনের দু’বছর আগেই নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এর আগে দিনের শুরুতে দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা দীপা দাসমুন্সি, মুকুল ওয়াসনিক এবং অজয় মাকেন আনুষ্ঠানিকভাবে সাথীশানের নাম ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে কংগ্রেসের পরিচিত নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
দিল্লিতে চূড়ান্ত পর্বের বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে.সি. ভেনুগোপালকে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়। পরে তাঁকেই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অন্যদিকে, প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালাকে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ফোনে জানান যে প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে এবং সাথীশানই চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন।
সাথীশানের এই উত্থান কংগ্রেসের কেরালায় নিজেদের নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নির্বাচনী ব্যর্থতার পর দল নতুন নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখছে। কোচি জেলায় জন্মগ্রহণকারী সাথীশান এই মাসের শেষের দিকে ৬২ বছরে পা দেবেন। পর্দার আড়ালের গোষ্ঠী রাজনীতির বদলে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছেন বিধানসভায় ধারালো বক্তৃতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে।
পেশায় আইনজীবী সাথীশান ২০০১ সালে প্রথমবার পারাভুর কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কংগ্রেসের অন্যতম তুখোড় বিতার্কিক হিসেবে পরিচিতি পান। পরিসংখ্যান, ব্যঙ্গ এবং নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি বামফ্রন্টের বিধায়কদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে কংগ্রেসের এক কঠিন সময়ের পরে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইউডিএফের ভরাডুবির পর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাঝে আপসের প্রার্থী হিসেবে তাঁকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছিল।
কিন্তু সেই পদকেই তিনি রাজনৈতিক শক্তির মঞ্চে পরিণত করেন। সোনা পাচার কাণ্ড, এআই ক্যামেরা বিতর্ক কিংবা আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে কেরালায় বামবিরোধী রাজনীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান ও আক্রমণাত্মক মুখ হয়ে ওঠেন।
কংগ্রেসের বহু প্রবীণ নেতার মতো সাথীশান কখনও দলের নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত ছিলেন না বলেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।



















