পাটনা, ১৪ মে (আইএএনএস): বিহারের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে ভোজপুর–বক্সার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রের বিধান পরিষদ উপনির্বাচনে এনডিএ প্রথম বড় নির্বাচনী ধাক্কার মুখে পড়ল। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই এনডিএর প্রথম নির্বাচনী পরাজয় বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) সমর্থিত মহাগঠবন্ধনের প্রার্থী সোনু কুমার রাই জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর প্রার্থী কানহাইয়া প্রসাদকে ৩৪০ ভোটে পরাজিত করে আসনটি দখল করেন। গত ১২ মে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হয়।
মোট ৫,৯৫৬টি ভোটের মধ্যে সোনু কুমার রাই পান ২,৪৮৬ ভোট। অন্যদিকে, কানহাইয়া প্রসাদ পান ২,১৪৬ ভোট। মনোজ উপাধ্যায়ের ঝুলিতে যায় ৬৩৬ ভোট এবং ৬২১টি ভোট বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। দুই দফায় ১৩টি টেবিলে ভোটগণনার কাজ সম্পন্ন হয়। শুরু থেকেই সোনু কুমার রাই ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে ছিলেন।
ফলাফলের প্রবণতা স্পষ্ট হতেই আরজেডি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়গুলিতে মিষ্টি বিতরণ করে উদযাপন করা হয়। এই জয়কে মহাগঠবন্ধনের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য এবং রাজ্যের এনডিএ সরকারের জন্য মানসিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর রাধাচরণ শেঠ পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়েছিল। প্রয়াত প্রাক্তন এমএলসি লালদাস রাইয়ের পুত্র সোনু কুমার রাই দীর্ঘদিন ধরেই আরজেডি এবং তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আরজেডির প্রধান মুখপাত্র শক্তি সিং যাদব এই জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যেখানেই ব্যালট পেপারে নির্বাচন হবে, সেখানেই আমরা জিতব।
তিনি ইভিএমে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন, যদিও নির্বাচন কমিশন বরাবরই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিহার রাজ্য আরজেডির মুখপাত্র এজাজ আহমেদ বলেন, ভোজপুর ও বক্সারের মানুষের এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের আস্থা ও সমর্থন এখনও আরজেডির প্রতিই রয়েছে।
এনডিএর সমর্থনে জেডিইউ রাধাচরণ শেঠের পুত্র কানহাইয়া প্রসাদকে প্রার্থী করেছিল। তবে দলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েন।



















