ঢাকা, ১৬ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশে হাম এবং হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যেই এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত ১২ শিশুর মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি আটজনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।
নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের মধ্যে দু’জন ঢাকা বিভাগ থেকে এবং একজন করে চট্টগ্রাম বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ থেকে ছিলেন।
এছাড়া সন্দেহভাজন মৃত্যুর মধ্যে তিনজন করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে এবং একজন করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ থেকে রয়েছেন।
একই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১১টি নতুন নিশ্চিত হাম সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। পাশাপাশি প্রায় ১,১৯২ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যান, যার মধ্যে ১,০১৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারের মধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারকে চলমান হাম টিকাকরণ কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ‘ফিভার কর্নার’ তৈরিরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে হাম ও নিউমোনিয়ার মতো রোগ দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
এই আহ্বান জানানো হয় বাংলাদেশ ফুসফুস ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ বক্ষ ও হৃৎপিণ্ড সমিতি-এর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর পর্যাপ্ত টিকাকরণ না হওয়া এবং অপুষ্টির সমস্যাই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে বুধবার ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে একদল বিক্ষোভকারী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় মানববন্ধন করেন। তাঁদের দাবি, হামে মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশে ৪০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে হামে। সাম্প্রতিক এক সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে “এড়ানো যেত এমন বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
















