নয়াদিল্লি, ১৫ মে (আইএএনএস): ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবিবর্তিত পরিস্থিতি, তার আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়াও ২০২৬ সালে ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য আরাঘচিকে স্বাগত জানান জয়শঙ্কর।
বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জয়শঙ্কর লেখেন, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং তার বহুমুখী প্রভাব নিয়ে মতবিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ও উঠে এসেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি ভারতের সঙ্গে ইরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিকস বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অঞ্চলের অব্যাহত উত্তেজনা, সমুদ্রপথে চলাচলের ঝুঁকি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর উপর প্রভাব বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথ, বিশেষত হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগর দিয়ে নিরাপদ ও বাধাহীন সামুদ্রিক চলাচল বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান। সংঘাত সমাধানে আলোচনাই দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর পথ।
অন্যদিকে ব্রিকস বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে আরাঘচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, ইরান “অবৈধ ও নির্মম আগ্রাসনের” শিকার হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।



















