আগরতলা, ১৪ মে: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ববোধে সম্পৃক্ত হয়ে প্রকৃত শিক্ষাদানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জন্য জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলে এবং প্রকৃত মানুষের মতো মানুষ হলে তার প্রশংসা কুড়াবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাই। শিক্ষক-শিক্ষিকরা হলেন আগামী প্রজন্মকে মানুষ বানানোর কারিগর। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গুণগত শিক্ষাদান সহ পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি শিক্ষাদানে প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিতে হবে। আজ রবীন্দ্র ভবনে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে স্নাতকোত্তরদের নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আজ স্নাতকোত্তর ৮৬৫ জনকে শিক্ষক-শিক্ষিকা পদে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী ৩৪ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকার দ্রুত বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদগুলি পূরণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে নতুন নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষিত বেকারদের স্বচ্ছতার সঙ্গে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে চাকরির জন্য কারোর সুপারিশ নিয়ে আসতে হয় না। যোগ্যতা অনুসারেই চাকরি হচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা তাদের মেধা ও পরিশ্রমের ফল পাচ্ছে। চাকরি প্রাপকদের পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকার একটা স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করেছে।
রাজ্য সরকার সঠিক লক্ষ্য নিয়েই যেমন স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, ঠিক তেমনিই নিয়োগ প্রক্রিয়াও জারি রেখেছে। স্বচ্ছতার মধ্য দিয়েই কাজ করে সরকার রাজ্যের মানুষের মন জয় করতে চায়। ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতা বুঝে এবং তাদের সাথে একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাদান করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনগুলিতেও একটা সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো গুণগত শিক্ষার প্রসার। সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করে চলেছে। ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের অধীনে মোট ৭, ১০৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়েছে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যে শিক্ষা সহ অন্যান্য দপ্তরে ২০১৮ থেকে আজ অব্দি মোট ২১,৮২৫ জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কন্ট্রাকচুয়াল ও আউটসোর্সিং-এর ভিত্তিতে ২৪,০৭৮ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষার প্রসারে বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের ৫৭৩টি উচ্চ ও উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দক্ষতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। ডিজিটাল শিক্ষা প্রসারে রাজ্যের ১,৩৮৪টি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে আই.সি.টি. প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯৪৯টি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস চালু করা হয়েছে। এসটি, এস.সি, ওবিসি ও সংখ্যালঘু বিদ্যালয় ছুট মেয়েদের শিক্ষার জন্য ১৫টি কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ১,৭২৭টি বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলিতে স্বাস্থ্য সচেতনতা, বাল্য বিবাহের কুপ্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা, জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে সক্ষম ত্রিপুরা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষা গ্রহণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে বলেন, রাজ্যের ৩ লক্ষ ৭ হাজার ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত শিক্ষাদানে বিদ্যাসেতু, নিপুণ ত্রিপুরা, স্মার্ট ক্লাস সহ নানা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয় ও সমগ্র শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা রাজীব দত্ত। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস.সি.ই.আর.টি.’র অধিকর্তা এল ডার্লং।



















