মাস্কাট/নয়াদিল্লি, ১৪ মে : হাজি আলি নামে একটি ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার পর ওমান-এর উপকূলে ডুবে গেছে। ঘটনায় জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমানি কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাহাজটি গুজরাত-এর সালয়া বন্দরে নথিভুক্ত ছিল এবং সোমালিয়া থেকে শারজাহ-এর দিকে গবাদিপশু পরিবহন করছিল। এটি সোমালিয়া থেকে যাত্রা করছিল বলে জানা গেছে। বিদেশ মন্ত্রক ওই ঘটনায় কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ভোর আনুমানিক ৩:৩০ মিনিটে ওমানের উত্তরের উপকূলের কাছাকাছি লিমাহ অঞ্চলে জাহাজটি একটি অজ্ঞাত বিস্ফোরক বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিকভাবে এটিকে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আঘাতের পর জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং পরে সেটি সমুদ্রে ডুবে যায়।
জাহাজের ১৪ জন নাবিক দ্রুত বিপদ সংকেত পাঠিয়ে লাইফবোটে করে সরে যান। তাঁদের মধ্যে একজন ট্যান্ডেল ও ১৩ জন ক্রু ছিলেন। পরে ওমান কোস্ট গার্ড উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সবাইকে নিরাপদে দেবা বন্দরে নিয়ে যায়। জাহাজ মালিক সুলতান আহমেদ সাংঘর নিশ্চিত করেছেন, সব নাবিকই নিরাপদ আছেন।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের লক্ষ্য করে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সব নাবিক সুস্থ আছেন এবং তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ভারতীয় পালতোলা নৌযান সমিতি জানিয়েছে, নাবিকদের নথিপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সরকারের কাছে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘটনার সময় জাহাজে থাকা বহু গবাদিপশু সমুদ্রে ভেসে যায় বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিল। এর আগে একই রুটে গুজরাটের আরেকটি জাহাজ আল-ফাইজ নূর সুলাইমানি-১ সংঘাতের মধ্যে পড়ে ডুবে যায় বলে জানা যায়, যা ভারতীয় সামুদ্রিক বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



















