নয়াদিল্লি, ১৬ মে (আইএএনএস): দিল্লির দ্বারকা এলাকায় চুরির একটি মামলায় দুই সক্রিয় অপরাধী ও এক রিসিভারকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গয়না, নগদ অর্থ এবং গলানো রুপো।
পুলিশ জানিয়েছে, দ্বারকা জেলার বিন্দাপুর থানার বিশেষ দল এই অভিযান চালায়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২.৪৩৩ কেজি ওজনের গলানো রুপোর ইট, ৫ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৪ টাকা নগদ, সোনার অলঙ্কার, রুপোর গয়না এবং ১৯৮টি পুরনো ভারতীয় ও বিদেশি মুদ্রা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল বিন্দাপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩০৫ ধারায় একটি অনলাইন ই-এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগকারী গিরিরাজ প্রসাদ জানান, তাঁর বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা সোনা-রুপোর গয়না এবং ৭৩ হাজার ৮০০ টাকা নগদ চুরি করেছে।
ঘটনার তদন্তে ইনস্পেক্টর নরেশ সাংওয়ানের নেতৃত্বে এবং এসিপি দাবরির সঞ্জীব কুমারের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।
২৫ এপ্রিলের ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক দিনের বেলায় বেআইনিভাবে অভিযোগকারীর বাড়িতে প্রবেশ করে প্রায় দু’ঘণ্টা ভিতরে থাকার পর বেরিয়ে যায়। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে ওই যুবককে আকাশ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ২৯ এপ্রিল নজফগড়ের রানাজি এনক্লেভ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ জানায়, সে চুরি করা সামগ্রী তার সহযোগী হর্ষের কাছে দিয়েছিল। এরপর পুলিশ হর্ষকে গ্রেফতার করে এবং তার ঘর থেকে সোনা-রুপোর গয়না ও ২ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, চুরির পর অভিযুক্তরা চুরি করা রুপো করোলবাগে নিয়ে গিয়ে এক গয়না ব্যবসায়ীর মাধ্যমে গলিয়ে বিক্রি করে। সেই সূত্রে রাজেশ কুমার কাটারিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ২.৪৩৩ কেজি ওজনের গলানো রুপোর একটি ইঙ্গট উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, পুরো চুরির পরিকল্পনা করেছিল হর্ষ। সে আকাশকে বাড়ির চাবি দিয়েছিল এবং কোথায় গয়না ও টাকা রাখা আছে, সেই তথ্যও দিয়েছিল। লোভের বশবর্তী হয়ে দু’জনে মিলে এই চুরি সংঘটিত করে বলে পুলিশের দাবি।
গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা হলেন— হর্ষ প্রসাদ (২০), আকাশ যাদব (১৯) এবং রিসিভার রাজেশ কুমার কাটারিয়া (৫৪)।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে।
______



















