নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ মার্চ৷৷ বরাদ্দ অর্থের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট প্রদান নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বিবাদ তুঙ্গে৷ আয়ুষ মন্ত্রকের স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক আয়ুষ প্রকল্পে পরবর্তী কিস্তির টাকা না দেওয়ার কথা বলতেই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চটে গিয়েছেন৷ তিনি রাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভূমিকার সমালোচনা করেছেন৷ পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এও স্বীকার করে নিয়েছেন ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া উচিৎ ছিল৷ সময় পাওয়া গিয়েছে৷ কিন্তু আমরা দিতে পারিনি৷ বৃহস্পতিবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী একথা জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক যেভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট না দিলে পরবর্তী কিস্তির অর্থ দেওয়া যাবে না তা খুবই অসন্তুষ্টির কারণ৷ রাজ্যের মানুষকে এভাবে বঞ্চিত করা যায় না, বলেন মন্ত্রী বাদল চৌধুরী৷ দুদিনের রাজ্য সফর এসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীন আয়ুষ শাখার স্বতন্ত্র দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক যেভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী৷ তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথিত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্কের পক্ষে হানিকর বলে উল্লেখ করেন৷
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যে আসার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোন যোগাযোগই করেননি৷ শুধু সফর সূচী পাঠিয়ে দিয়েছিলেন৷ তারপরও তিনি রাজ্যের বেশ কিছু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন৷ কৈলাসহর থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আমাকে ফোন করে একটি বদলি করানোর কথা বলেন৷ তখনই আমি তার কাছে সাক্ষাতের সময় চাই৷ তবে তিনি প্রথম রাজি হন নি৷ পরে অবশ্য সরকারি অতিথিশালায় গিয়ে দেখা করার সময় দেন৷
রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বাদল চৌধুরী বলেন, সাক্ষাৎকার কালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে এক গুচ্ছ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পেশ করেছেন৷ রাজ্যের আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল ও হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের মান উন্নয়ন সহ আয়ুষকে রাজ্যের গ্রামীণ স্তরে নিয়ে যাবার কথা বলা হয়েছে৷ কয়েকটি ক্ষেত্রে তিনি ব্যবস্থা নেবার আশ্বাসও দিয়েছেন৷
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় আয়ুষ দপ্তরে রাষ্ট্রমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) এস ওয়াই নায়েক ত্রিপুরা রাজ্য সফরকালে কৈলাসহরের আর জি এম হাসপাতালের পঞ্চকর্ম কেন্দ্র, আগরতলায় রাজ্য আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল এবং উদয়পুর হাসপাতালের পঞ্চকর্ম কেন্দ্র পরিদর্শন করেন৷ ১ মার্চ রাজ্য সরকারি অতিথিশালায় কেন্দ্রীয় আয়ুষ দপ্তরের মন্ত্রী শ্রীনায়েকের সঙ্গে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বাদল চৌধুরী এক বৈঠকে মিলিত হন৷ বৈঠকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব রাখা হয়৷ এই সম্পর্কে আজ সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী জানান, রাজ্য সরকার চায় রাজ্যের প্রতিটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রস্তর পর্যন্ত আয়ুষ পরিষেবা নিয়ে যেতে৷ প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২ জন করে আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার দিতে চায় রাজ্য সরকার৷ রাজ্যে মানব সম্পদের পাশাপাশি আয়ুষ মেডিসিনের পর্যাপ্ত কাঁচামালও রয়েছে৷ রাজ্যের বনে প্রচুর পরিমাণে বনৌষধি গাছপালা রয়েছে৷ কিন্তু এগুলির প্রক্রিয়াকরণের কোনো ইউনিট নেই৷ বনৌষধি গাছকে কাজে লাগানোর জন্য একটা আয়ুষ কারখানা গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্র সরকারের নিকট প্রস্তাব করা হয়েছে৷ এজন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমিও দেবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান৷
শ্রীচৌধুরী বলেন, খুমুলুঙে হোমিওপ্যাথির একটি আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়েছে৷ এতে আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন, এম আর আই, সি টি স্ক্যান ইত্যাদি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে৷ ঠিক সেই রকম রাজ্যে আয়ুর্বেদিকের জন্যও একটি আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে৷ এছাড়াও রাজ্যে একটি আয়ুর্বেদের সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান (এ আই আই এ) স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করা হয়৷ তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যে ভাল সংখ্যক পিজি ডিগ্রি ধারী আয়ুর্বেদিক ডাক্তারও রয়েছেন৷ এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজি৷ এই বিষয়ে এই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের আয়ুষ মন্ত্রকের মন্ত্রীর কাছে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের রাজ্যেও যোগাসনের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার৷ যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তর এবং আয়ুষ যোগাসনের জনপ্রিয়তার প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে৷ ফলে রাজ্য এখন যোগার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে৷ যোগাকে আরো শক্তিশালী করার জন্য যোগাসনের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ এর জন্য রাজ্য সরকার শহরে উপযুক্ত জায়গা দেবে বলেও তিনি জানান৷
শ্রীচৌধুরী জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৪টি পঞ্চকর্মা থেরাপি ইউনিট রয়েছে এবং সেগুলির জনপ্রিয়তাও ব াড়ছে৷ রাজ্য সরকার ১০ শয্যাবিশিষ্ট বিভাগ কাঞ্চনপুর, কমলপুর, অমরপুর, বিশালগড় এবং সোনামুড়া এই ৫টি মহকুমা হাসপাতালে এবং ধর্মনগর, শান্তিরবাজার ও খোয়াই এর তিনটি জেলা হাসপাতালে চালু করার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রীর কাছে৷

ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিলের ব্যর্থতা স্বীকার করে কেন্দ্রের সমালোচনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
Releated Posts
শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই
নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…


















