কলকাতা, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আনা সংশোধনী বিলে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থন জানালেও, কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিলের প্রতি সমর্থন জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না।
অভিষেক বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর অধিকার রয়েছে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষার নিশ্চয়তা পাওয়ার। একই সঙ্গে প্রতিটি অভিভাবকেরও বিশ্বাস থাকা উচিত যে কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও সততার ভিত্তিতেই সাফল্য নির্ধারিত হবে, অর্থ, প্রভাব বা সংগঠিত চক্রের মাধ্যমে নয়।
তিনি বলেন, এই বিলকে আমরা সমর্থন করছি, কিন্তু সমর্থন জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না। কঠোর আইন প্রয়োজন, তবে সেটাই যথেষ্ট নয়। যদি পরীক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকভাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে যায়, তাহলে যতই কঠোর সংশোধনী আনা হোক না কেন, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
কেন্দ্রের এনডিএ ও বিজেপি সরকারকে নিশানা করে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেন, এই বিল সমস্যার সমাধান নয়, বরং সরকারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি।
তার অভিযোগ, সরকার পরীক্ষা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মেধার মর্যাদা বজায় রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন ১২ বছরের ব্যর্থতা ঢাকতে শুধু শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।
অভিষেকের কথায়, সুশাসন শিরোনাম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় না, তার মূল্যায়ন হয় ফলাফলের ভিত্তিতে। এই সরকারের একটি অভ্যাস হয়ে গেছে—প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঘটলেই আইন পরিবর্তন, শাস্তি বাড়ানো বা নতুন কমিটি গঠন করা। কিন্তু এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর সরকার নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও একই ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বারবার সামনে আসছে। পরীক্ষার নাম বদলায়, অভিযুক্তের নাম বদলায়, ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বদলায়, কিন্তু অপরাধ এবং সরকারের ব্যর্থতা একই থেকে যায়, মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, সরকার দাবি করে তারা উপগ্রহ নজরদারি করতে পারে, ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি অনুসরণ করতে পারে, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। অথচ গোপন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কীভাবে ফাঁস হয়ে যায়, তা রোধ করতে পারে না। এটি বর্তমান প্রশাসনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
এ সময় তিনি নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানী দিল্লিতে হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গও তোলেন। তার অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারী মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের পরিবর্তে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থীরা শুধু সঠিক প্রশ্ন তুলেছিল এবং মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের দাবি করেছিল, তাদের জবাবে সরকার ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ, পেলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। মনে হচ্ছে, সরকার প্রতিটি আন্দোলনকেই ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে।
বক্তব্যের শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এই সরকারের জন্য যে রিপোর্ট কার্ড তৈরি করছে, সেখানে শীর্ষে একটাই শব্দ থাকবে—‘ব্যর্থ’। পরীক্ষা রক্ষা করতে ব্যর্থ, মেধা রক্ষা করতে ব্যর্থ, মানুষের আস্থা রক্ষা করতে ব্যর্থ এবং শিক্ষার্থীদের সম্মান রক্ষা করতেও ব্যর্থ।



















