নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুলাই: রাজ্যের মানুষদের সুস্থ রাখাই রাজ্য সরকারের লক্ষ্য। হেপাটাইটিস রোগ নির্মূল করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর আরও জোর দিতে হবে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত স্ক্রিনিং বাড়াতে হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে হেপাটাইটিস মুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তোলা হবে। আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশন অফ ত্রিপুরা’র উদ্যোগে এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সহযোগিতায় বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হেপাটাইটিস- বি ভাইরাসের আবিষ্কারক এবং হেপাটাইটিস- বি টিকার উদ্ভাবক ডা. বি. লোমবার্গের জন্মদিবস উপলক্ষ্যেই এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। এটি হল এক ধরণের নীরব ঘাতক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে সম্পূর্ণরূপে হেপাটাইটিস মুক্ত গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। রাজ্য সরকারও রাজ্যকে হেপাটাইটিস মুক্ত করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছে। বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সচেতনতাই এই রোগের বিস্তার রোধ করতে পারে। এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও বেশি করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে হবে। ত্রিপুরাকে হেপাটাইটিস মুক্ত করতে সরকারের সব ধরণের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে মহকুমা থেকে জেলায়, জেলা থেকে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালগুলিতে অভ্যন্তরীন রেফারেল রোগীর সংখ্যা অনেক কমেছে। চিকিৎসা পরিষেবায় বর্তমানে রাজ্যে ৯টি সুপার স্পেশালিটি ব্লক রয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যে প্রধান রেফারেল হাসপাতাল জিবিতে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। রাজ্যে নতুন একটি সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্য সহ রাজ্যের সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাচ্ছন্দের জন্য করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে। স্বাস্থ্য সচেতনতার অঙ্গ হিসেবে শিশু ও কিশোরদের টিকাকরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব- সুস্থ কৈশোর কর্মসূচিতে ১০০ শতাংশ সাফল্য রাজ্যের জন্য একটা মাইলফলক। মুখ্যমন্ত্রী জনআরোগ্য যোজনায়ও ১০০ শতাংশ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হেপাটাইটিস রোগ প্রতিরোধে টিকা গ্রহণে রাজ্যের প্রতিটি স্থানে উৎসাহ প্রদান, জনসচেতনতামূলক কাজ আরও বেশি করে করতে হবে। হেপাটাইটিস রোগ নির্মূলকরণে সরকার আরও বেশি করে টিকাকরণের উপর জোর দিয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বাস্তবের সাথে তাল মিলিয়ে সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশন অফ ত্রিপুরার বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজগুলির প্রশংসা করেন। তিনি রাজ্যের সমস্ত অংশের মানুষকে হেপাটাইটিস মুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, রাজ্যকে হেপাটাইটিস মুক্ত গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তর রাজ্যের নানা স্থানে আরও বেশি করে টিকাকরণ শিবির করার উপর জোর দিয়েছে। অনুষ্ঠানে হেপাটাইটিস রোগ সম্পর্কে আলোচনা করেন ত্রিপুরা হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ডা. প্রদীপ ভৌমিক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ত্রিপুরা মিশন ডিরেক্টর সাজু বাহিদ এ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক দিবাকর দেবনাথ। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশন অফ ত্রিপুরার সভাপতি ডা. এন এল ভৌমিক। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী হেপাটাইটিস ফাউন্ডেশন অব ত্রিপুরার একটি নিউজলেটার প্রকাশ করেন এবং বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।



















