নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুলাই: এইমস, নিউদিল্লির সহযোগিতায় ত্রিপুরা সরকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য যে প্রয়াস নিয়েছে, তার বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে পর্যালোচনার লক্ষ্যে সম্প্রতি মহাকরণে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। মৌ স্বাক্ষরের পর গত কয়েকমাসে রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এইমস, নিউ দিল্লির অধিকর্তা প্রফেসর (ডাঃ) নিখিল ট্যন্ডন। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদক্ষেপগুলি রাজ্য সরকার যেভাবে দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করেছে তাতে যে অগ্রগতি হচ্ছে সে বিষয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জোর দিতে জিবিপি হাসপাতালে সুপার-স্পেশালিটি শিক্ষা, পরিকাঠামো ও পেরিফেরাল স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএম এবং এমসিএইচ কোর্স চালুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া পেরিফেরাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি উন্নত করে জিবিপি হাসপাতালকে একটি টারশিয়ারি কেয়ার হাসপাতাল হওয়ায় এখানে রোগীদের ভিড় অত্যন্ত বেশি হয়। এই চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে পেরিফেরাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলে এইমস এর ডিরেক্টর জানিয়েছেন। এছাড়াও বর্তমানে চালু বিভাগের পরিকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধি করে জিবিপি হাসপাতালের বর্তমান বিভাগগুলোর পরিকাঠামোগত এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন করে পরিষেবা প্রদানের সময় বা ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ কমিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ২৩ জুন মহাকরণে ভিডিও কনফারেন্সেও এইমস, নিউ দিল্লি এবং ত্রিপুরা সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্র এর প্রেক্ষিতে যে অগ্রগতি হয়েছে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকার কথা এইমস এর বিশেষজ্ঞ দল উল্লেখ করেছিলেন। মৌ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের তরফে নির্ধারিত পদক্ষেপ সমূহগুলির মধ্যে বেশিরভাগই রাজ্য সরকার দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষজ্ঞ দল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। টেলিমেডিসিনের কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যবস্থা, বহিরাজ্যে রোগীদের রেফার এর সংখ্যা কমিয়ে আনা সহ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বলিষ্ঠ পদক্ষেপের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন তারা। পাশাপাশি রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার এক অংকে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ তারা দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত এবছর গত ২৮ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার রুমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গত ১৭ অক্টোবর ২০২৫ স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্র (মৌ)-এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ সংক্রান্ত অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং এইমস, নিউ দিল্লির তৎকালীন ডাইরেক্টর প্রফেসর (ডাঃ) এম. শ্রীনিবাস এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন। মৌ অনুসারে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্মীবাহিনী গঠন, আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইটি-সক্ষম ব্যবস্থার উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কার প্রক্রিয়াধীন ও আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। কর্মচারি নিয়োগ ও মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিকার ও ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট, প্রশিক্ষণ ও স্কিল আপগ্রেডেশনের জন্য এইমস-এর সঙ্গে সমন্বয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চিকিৎসা শিক্ষা ও একাডেমিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন বিভাগ চালু স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স, সার্ভিস রুল সংশোধন এবং এইমস-এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে জরুরি পরিষেবা, আইসিইউ সম্প্রসারণ, ওটি কার্যকরিকরণ, পিপিপি মডেলে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজ চালু রয়েছে। আজকের এই পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে, অতিরিক্ত সচিব সাজু বাহিদ এ, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকারের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা প্রফেসর (ডাঃ) অভিজিৎ দত্ত, আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর (ডাঃ) বিপ্লব নাথ, আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ বিধান গোস্বামী, এইমস, নিউ দিল্লির এইমস, অধিকর্তা প্রফেসর (ডাঃ) নিখিল ট্যন্ডন প্রমুখ।
























