নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুলাই: তিপ্রা মথা পরিচালিত টিটিএএডিসি-এর প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলল গণমুক্তি পরিষদ। মঙ্গলবার আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে জিএমপির সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা এডিসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাধাচরণ দেববর্মা দাবি করেন, এডিসিতে বিভিন্ন শূন্যপদে যেসব প্রার্থীর ইতিমধ্যে সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, বামফ্রন্ট পরিচালিত এডিসি প্রশাসনের সময় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার পদ শূন্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে টিপ্রা মথা এডিসির ক্ষমতায় আসার পর ওই শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এছাড়া প্রায় ১২০০ জন এডিসি পুলিশ কর্মীর নিয়োগ নিয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। জিএমপি সাধারণ সম্পাদক জানান, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, পশুপালন কর্মী, আমিন এবং কৃষি সহকারী-সহ বিভিন্ন পদে ইতিমধ্যেই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাই দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এডিসি প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।
রাধাচরণ দেববর্মার অভিযোগ, ২০২০ সালে বামফ্রন্ট পরিচালিত এডিসি প্রশাসনের সময় যেখানে প্রায় ৬ হাজার কর্মী ছিলেন, বর্তমানে এডিসিতে কর্মীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৯২৩ জনে। প্রায় ১,৭৫০টি পদ কমে গেলেও নতুন নিয়োগ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি এডিসিতে বর্তমানে যে নিয়োগ হচ্ছে, তার অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়ম রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং কথিত বেআইনি নিয়োগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এডিসির আর্থিক সংকটের দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাধাচরণ দেববর্মা। তাঁর অভিযোগ, অর্থের অভাবের কথা বলা হলেও শিলংয়ে একটি বাড়ি ৩০ বছরের জন্য প্রায় ৫.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লিজ নেওয়া হয়েছে। ওই বাড়ি নেওয়ার উদ্দেশ্য কী, তা সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
এছাড়াও ৪০০-র বেশি পেনশনভোগীর বকেয়া অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, চলতি আর্থিক বছরের প্রায় চার মাস অতিক্রান্ত হলেও উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ এখনও শুরু হয়নি।
এডিসির আইন উপদেষ্টাদের জন্য ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিএমপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি গৌরব কেজরিওয়ালকে প্রতি মাসে ১.২৭ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাক্তন হায়দরাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি বি.পি. ব্যাসকে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার চুক্তিতে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের যাতায়াত ও থাকার খরচও এডিসির উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাধাচরণ দেববর্মা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ২৭ কোটি টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে। এডিসির সমস্ত কাজকর্মে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আগামী ভিলেজ কমিটি (ভিসি) নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জিএমপি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সাম্প্রতিক কিছু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের আস্থা রয়েছে এবং দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে।
জিএমপি সাধারণ সম্পাদক সাধারণ মানুষকে এডিসির প্রশাসনিক কার্যকলাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
——-;;;



















