কলকাতা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আবহে পুলিশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বারুইপুরে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ডাকা মিছিলে বিশৃঙ্খলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মিছিল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
তিনি জানান, আদালতের অনুমতি নিয়েই মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত রুট সম্পর্কে আগাম পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত গণতান্ত্রিক অধিকারের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান প্রশাসন সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বেশি আগ্রহী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে মিড-ডে মিল প্রকল্পে ডিম সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাজ্যের বহু দরিদ্র পড়ুয়া প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভয় দেখিয়ে, জোরপ্রয়োগ করে বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে প্রশাসন পুলিশের একাংশকে ব্যবহার করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, পুলিশের একাংশ বিরোধীদের কর্মসূচি সংক্রান্ত গোপন তথ্য বিজেপি কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। রাজ্যে অবিলম্বে আইনের শাসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়া পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করবে।
বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং যুব কর্মী, এমনকি দলের আইটি সেলের চেয়ারপার্সনও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আহত কর্মীদের সাহায্য করতে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে বলেও জানান।
রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলার মানুষ কি এই পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছিলেন? পরিবর্তন মানে হওয়া উচিত শান্তি, নিরাপত্তা, হিংসা হ্রাস এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের উল্লেখযোগ্য কমে যাওয়া।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বুধবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়ির বাইরে মোটরসাইকেলে করে বিজেপি সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন, যার ফলে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাড়ির বাইরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মীরা মোতায়েন থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনও উদ্যোগ নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আদালত অনুমোদিত রুটে হ্যান্ড মাইক ব্যবহারের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ জোর করে তা তৃণমূল কর্মীদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। পাশাপাশি, তৃণমূলের কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও বিজেপির কর্মসূচি নির্বিঘ্নে চলতে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁর আরও দাবি, বিরোধীদের কর্মসূচি আটকে রাখতে পুলিশ ব্যস্ত থাকার সময় শাসকদল সমর্থকরা সকাল থেকেই ডিজে বাজিয়ে এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে। পরে তারা মিছিলে ঢুকে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয় এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
























