নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (আইএএনএস): বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মোড়কে ভ্রান্তিকর দাবি এবং লেবেলিং সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে লোটে ইন্ডিয়া কর্পোরেশন প্রাইভেট লিমিটেড, কুবেরা ফুডস এবং ফার্নস এন পেটালস প্রাইভেট লিমিটেড (এফএনপি)-কে নোটিস পাঠিয়েছে ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। বুধবার সংস্থাটি জানিয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার জবাব সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, লোটে ইন্ডিয়া পূর্বানুমতি ছাড়াই পুরনো কোম্পানির নাম-সহ প্রি-প্রিন্টেড লেবেল ব্যবহার করেছে। এছাড়া সংস্থার কিছু চোকো পাই পণ্যে ‘১০০ শতাংশ নিরামিষ’ দাবি ভ্রান্তিকর বলে মনে করা হয়েছে।
এছাড়াও পেপেরো ক্রাঞ্চি বিস্কুট স্টিকস ও পেপেরো অরিজিনাল বিস্কুট স্টিকস-এর পুষ্টিগুণ সংক্রান্ত তথ্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়নি। ললি ব্লিস ললিপপ-এ ভিটামিনের মাত্রাও বিজ্ঞাপন ও দাবিসংক্রান্ত বিধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ।
সংস্থার ফ্রুইটজ এক্লেয়ার্স পণ্যের নাম নিয়েও আপত্তি তুলেছে এফএসএসএআই। কারণ, ওই পণ্যে কোনও ফল না থাকা সত্ত্বেও নাম দেখে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হতে পারেন। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় সতর্কীকরণ বার্তাও প্যাকেটের সামনের অংশে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, কুবেরা ফুডস-এর ‘সফট অ্যান্ড ফ্রেশ ক্রিম বান পাইনঅ্যাপল’ পণ্যের মোড়কে ‘১০০ শতাংশ প্রাকৃতিক’ এবং ‘কোনও প্রিজারভেটিভ, রং বা ফ্লেভার নেই’ বলে দাবি করা হলেও, লেবেলেই সংরক্ষণকারী, কৃত্রিম রং এবং অতিরিক্ত ফ্লেভারিং উপাদানের উপস্থিতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
এফএসএসএআই-এর মতে, ‘ পিওর ‘, ‘ ফ্রেস ‘ এবং ‘ ন্যাচারাল ‘-এর মতো শব্দের ব্যবহারও সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করেছে।
এছাড়া ফার্নস এন পেটালস-এর ‘রোস্টেড আলমন্ড চকোলেট’ পণ্য নিয়েও আপত্তি তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ, এতে উদ্ভিজ্জ হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট থাকা সত্ত্বেও এটিকে ‘প্রিমিয়াম চকোলেট’ হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছে এবং কোকো বাটারের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ ফ্যাট ব্যবহারের বাধ্যতামূলক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি, পুষ্টিগুণের তালিকায় সুপারিশকৃত খাদ্যতালিকা ভাতা-এর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি এবং উপাদানের তালিকায় ব্যবহৃত বাদামের শতাংশও জানানো হয়নি, যদিও প্যাকেজিংয়ে বাদামকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এফএসএসএআই তিনটি সংস্থাকেই সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না মিললে খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
________
























