নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (আইএএনএস): ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জেরে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন করে সমর্থক জোগাড়ের লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল প্রচার অভিযানে নেমেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই প্রচারের মূল লক্ষ্য ভারতে ও পাকিস্তানে যুবকদের উগ্রপন্থার দিকে প্ররোচিত করা এবং সংগঠনের প্রভাব বজায় রাখা।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, অপারেশন সিঁদুরে জইশের বাহাওয়ালপুর সদর দফতর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংগঠনের একাধিক শীর্ষ নেতা ও জঙ্গি নিহত হওয়ায় তাদের সাংগঠনিক কাঠামোও বড় ধাক্কা খেয়েছে। যেখানে লস্কর-ই-তইবা ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, সেখানে জইশ এখনও সেইভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
এক শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিক জানান, গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়েছে যে জইশ বড় আকারের ডিজিটাল প্রচার চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে ভারত ও পাকিস্তানের যুবকদের উগ্রপন্থায় আকৃষ্ট করার চেষ্টা হবে, অন্যদিকে সংগঠনের কর্মীদের অন্য গোষ্ঠীতে চলে যাওয়া ঠেকানোই মূল উদ্দেশ্য।
গোয়েন্দাদের দাবি, এই প্রচারে জিহাদ-সংক্রান্ত প্রচারসামগ্রীর পাশাপাশি ভুয়ো ও বিকৃত ভিডিও ছড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে, জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনী সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে—এমন মিথ্যা বার্তা ছড়িয়ে ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হতে পারে।
তাদের মতে, এই ধরনের প্রচার ভারতে স্বদেশি জঙ্গি সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহে ব্যবহার করা হতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের যুবকদেরও ভারতে হামলার উদ্দেশ্যে জঙ্গি দলে যোগ দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা চলবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জইশ-ই-মহম্মদ বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটের মধ্যে রয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত নীরব। জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অবস্থান নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে, যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, বাহাওয়ালপুরে জইশের ‘মারকাজ সুবহান আল্লাহ’ সদর দফতর পুনর্নির্মাণ করা হলেও সেখানে আগের মতো কার্যকলাপ নেই। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়াতেই সংগঠনটি আপাতত নিচু প্রোফাইলে থাকার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া জানা গিয়েছে, আগে যেখানে ওই ঘাঁটিতে প্রায় ৬০০ সক্রিয় জঙ্গি ও শীর্ষ নেতৃত্ব অবস্থান করত, এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। নিরাপত্তার কারণে বহু শীর্ষ নেতাকে পাকিস্তানের সেনা স্থাপনার কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি মাসুদ আজহারও আর বাহাওয়ালপুরের ওই ঘাঁটিতে যান না। গোয়েন্দা সূত্রের আরও দাবি, অপারেশন সিঁদুরে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা নিহত হওয়ার পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
_______
























