নয়াদিল্লি, ১৬ জুন (আইএএনএস): নিট পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন।
এক বিবৃতিতে খাড়গে নিট পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করার পরিবর্তে কেন্দ্র সরকার মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রশ্নপত্র পরিবহণে ভারতীয় বায়ুসেনাকে ব্যবহার করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা এবং মূল অভিযুক্তদের আড়াল করে ছোটখাটো ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এক্স-এ করা এক পোস্টে খাড়গে বলেন, “মোদি জির প্রথমে তাঁর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাওয়া উচিত। তিনি কার্যত কোটি কোটি যুবকের ভবিষ্যৎ আটকে দিয়েছেন।”
কংগ্রেস সভাপতির দাবি, গত এক দশকে প্রায় ৯০টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় ৯ কোটি যুবক-যুবতী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কেলেঙ্কারির মানবিক মূল্যও অত্যন্ত ভয়াবহ। তাঁর দাবি, একাধিক পরীক্ষার্থী মানসিক চাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। বহু অভিভাবক নিট, এসএসসি, ইউজিসি-নেট এবং সিইউইটি-র মতো পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ঋণ নিয়ে কোচিংয়ের খরচ বহন করেছেন, কিন্তু প্রশ্নফাঁসের কারণে তাঁদের সন্তানদের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে।
সাম্প্রতিক সিবিএসই ফলাফল সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে খাড়গে অভিযোগ করেন, ১৭-১৮ বছরের ছাত্রছাত্রীদেরও একটি “কারচুপিপূর্ণ ব্যবস্থার” বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামতে হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা ইউপিএসসি-র বিশ্বাসযোগ্যতাও এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
খাড়গের মতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়ম মোকাবিলায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
তাঁর কথায়, “দেশের সচেতন যুবসমাজ এখন একটাই দাবি তুলছে— ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।” তিনি দাবি করেন, সুশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বিজেপি সরকার ব্যর্থ হয়েছে।



















