জম্মু, ১৬ জুন (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার একটি দুর্ঘটনাজনিত ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও)-সহ চার সেনাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, রাজৌরির নওশেরা সেক্টরের অগ্রবর্তী কালাল এলাকায় সেনাবাহিনীর এরিয়া ডমিনেশন প্যাট্রোল চলাকালীন হঠাৎ একটি ল্যান্ডমাইন সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে।
এক আধিকারিক বলেন, “বিস্ফোরণে এক জেসিও এবং তিন জওয়ান আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।”
সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে সেনাবাহিনী অগ্রবর্তী এলাকাগুলিতে বিপুল সংখ্যক ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখে। তবে বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে অনেক সময় এই মাইনগুলি তাদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যায়। এ ধরনের মাইনকে ‘ড্রিফট মাইন’ বলা হয় এবং সেনা টহলদল সংক্রান্ত অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য এই ড্রিফট মাইনই দায়ী বলে জানা যায়।
জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলওসি রয়েছে, যা কাশ্মীর উপত্যকার বারামুল্লা, কুপওয়ারা—বান্দিপোরা জেলা এবং জম্মু বিভাগের রাজৌরি, পুঞ্চ ও জম্মু জেলার একটি অংশ জুড়ে বিস্তৃত।
এছাড়া জম্মু বিভাগের সাম্বা, কাঠুয়া এবং জম্মু জেলায় প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
এলওসি-র নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, আর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পাহারা দেয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ, মাদক ও অর্থ পাচারের প্রচেষ্টা রুখতে নিরাপত্তাবাহিনী নিয়মিত নজরদারি চালায়।
এদিকে মঙ্গলবার রাজৌরির সুন্দরবনি সেক্টরের মহাদেব গ্যাপ ও কালাল গ্রামের মাঝামাঝি অগ্রবর্তী এলাকায় একটি সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনী ঘেরাও ও তল্লাশি অভিযান শুরু করে। যদিও কোনও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ও বিএসএফ অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই প্রযুক্তি মোতায়েনের পর সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোন কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
________



















