নয়াদিল্লি, ১৪ জুন (আইএএনএস): ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ১৫৬ গিগাওয়াট বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে সোমবার গোয়ায় ‘গ্লোবাল উইন্ড ডে ২০২৬’ সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছে ভারত। ‘উইন্ড এনার্জি: ফ্রম অ্যাম্বিশন টু অ্যাক্সেলারেশন’ শীর্ষক এই সম্মেলনে দেশের বায়ুশক্তি খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্থাপিত বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতার নিরিখে ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে যেখানে দেশের বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ২১.০৪ গিগাওয়াট, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬.০৯ গিগাওয়াটে, যা প্রায় ২.৬৬ গুণ বৃদ্ধি।
এছাড়াও আরও ২৮ গিগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
সম্মেলনে বায়ুশক্তি খাতের পরবর্তী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি যেমন— সম্পদ পর্যাপ্ততা, বিদ্যুৎ গ্রিডের প্রস্তুতি, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেশীয় উৎপাদন শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা, রফতানির সুযোগ, পূর্বাভাস প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে।
এই অনুষ্ঠানে ‘এলিভেটিং ইন্ডিয়াস উইন্ড টারবাইন এক্সপোর্টস ফর গ্লোবাল মার্কেটস’ শীর্ষক একটি শিল্প-প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হবে।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ উইন্ড এনার্জি, গ্রিড ইন্ডিয়া-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা, রাজ্য সরকার এবং শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত বায়ুশক্তি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বার্ষিক সংযোজনের রেকর্ড গড়েছে। ওই সময়ে ৬.০৫ গিগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের ৪.১৫ গিগাওয়াটের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট বায়ুশক্তি উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার সময়ে উৎপন্ন হয়, যা সৌরশক্তির পরিপূরক হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বাড়ায়।
নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভূমি থেকে ১২০ মিটার উচ্চতায় ভারতের সম্ভাব্য মোট বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৬৯৫.৫ গিগাওয়াট এবং ১৫০ মিটার উচ্চতায় তা ১,১৬৩.৯ গিগাওয়াট।
১৫০ মিটার উচ্চতায় মূল্যায়িত সম্ভাবনার বড় অংশই কেন্দ্রীভূত রয়েছে আটটি রাজ্যে— রাজস্থান (২৮৪.২ গিগাওয়াট), গুজরাট (১৮০.৮ গিগাওয়াট), মহারাষ্ট্র (১৭৩.৯ গিগাওয়াট), কর্ণাটক (১৬৯.৩ গিগাওয়াট), অন্ধ্রপ্রদেশ (১২৩.৩ গিগাওয়াট), তামিলনাড়ু (৯৫.১ গিগাওয়াট), মধ্যপ্রদেশ (৫৫.৪ গিগাওয়াট) এবং তেলেঙ্গানা (৫৪.৭ গিগাওয়াট)।
দেশজুড়ে ৯০০-রও বেশি বায়ু পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হচ্ছে। ৫০ মিটার থেকে ১৫০ মিটার পর্যন্ত বিভিন্ন উচ্চতায় বায়ুশক্তির সম্ভাবনার মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে, দেশের বায়ুচালিত টারবাইন উৎপাদন ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে যেখানে এই ক্ষমতা ছিল ১০ গিগাওয়াট, ২০২৬ সালের মার্চে তা বেড়ে প্রায় ২৪ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বায়ুশক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দেশীয়করণ অর্জিত হয়েছে। ব্লেড, টাওয়ার, গিয়ারবক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের জন্য শক্তিশালী দেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী দিনে ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বায়ুশক্তির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



















