নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): ভারতে আধুনিক শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্রের ভারত ঔদ্যোগিক বিকাশ যোজনা (ভাব্য) প্রকল্পকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে শিল্পমহল। তাদের মতে, এই প্রকল্প দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই ৩৩,৬৬০ কোটি টাকার ভাব্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নির্দেশিকা জারি করেছে। এর আওতায় বিশ্বমানের পরিকাঠামো সমৃদ্ধ শিল্প পার্ক গড়ে তুলতে ৫০টি প্রস্তাব নির্বাচন করা হবে। মোট ১০০টি শিল্প পার্ক নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন-র মতে, এই প্রকল্প ভারতের শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিনের বিচ্ছিন্ন ও সরবরাহ-নির্ভর উন্নয়ন মডেল থেকে সরে এসে এখন চাহিদাভিত্তিক এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যে রাজ্যগুলি শিল্প সম্ভাবনা, জমির প্রস্তুতি, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং নির্দিষ্ট খাতে দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবে, তারা এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার পাবে।
আইসিইএ-র চেয়ারম্যান পঙ্কজ মহিন্দ্রু বলেন, প্রতিযোগিতামূলক রাজ্যভিত্তিক মডেল এবং স্বচ্ছ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বমানের শিল্প পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে আধুনিক পরিকাঠামো, উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যাবে।
তাঁর মতে, এই উদ্যোগ দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতকে আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।
শিল্পমহলের বক্তব্য, বিশ্বের বহু দেশে ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ শিল্প পার্ক উৎপাদনশীল অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে। কিন্তু শিল্প পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ভারত এতদিন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ভাব্য প্রকল্প সেই কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে দেশকে আরও শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
কলিয়ার্স ইন্ডিয়া-র গবেষণা বিভাগের প্রধান বিমল নাদার বলেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত শিল্প পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আগেভাগেই জমি, অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং শিল্প পার্কগুলির আশপাশে গুদামজাতকরণের চাহিদাও বাড়বে।
তাঁর মতে, ভাব্য প্রকল্প দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলবে, সরবরাহ শৃঙ্খল ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।
________



















