নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ-কে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরবর্তী সেনাপ্রধান (চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। শনিবার কেন্দ্র সরকার এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা করেছে।
বর্তমানে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ থেকে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বর্তমান সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদি ওই দিনই অবসর গ্রহণ করবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি-র প্রাক্তনী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বাহিনীতে (আর্মার্ড কর্পস) কমিশনপ্রাপ্ত হন।
চার দশকেরও বেশি সময়ের সামরিক জীবনে তিনি অপারেশনাল, কৌশলগত, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকীকরণে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।
সামরিক জীবনে তিনি মরুভূমি অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটারে একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু-কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসদমন বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোর-এর কমান্ডার ছিলেন। এছাড়াও তিনি দিল্লি জোনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামরিক যোগাযোগ এবং আনুষ্ঠানিক সামরিক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেন।
ধীরজ শেঠের একটি বিরল কৃতিত্ব হল, তিনি দু’টি অপারেশনাল আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অঞ্চলের কৌশলগত তদারকির দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি অপারেশন পরিকল্পনা, বাহিনী পরিচালনা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিরক্ষা সক্ষমতার রূপরেখা নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদি বাহিনী কাঠামো গঠন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
একজন কৃতী সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন। তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ থেকে স্নাতক হন। পাশাপাশি ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেন, যা তাঁর বিস্তৃত কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমকালীন সামরিক বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের পরিচয় বহন করে।



















