নয়াদিল্লি, ৩১ মে (আইএএনএস): জাতীয় স্তরের প্যারা-অ্যাথলিট চিরাগ ত্যাগী-র রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রীড়া মহল ও উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলায়। শনিবার সন্ধ্যায় গাজিয়াবাদের কোটওয়ালি থানা এলাকার সাই উপবন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি খুন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, চিরাগ দিল্লির হস্টেল থেকে নিজের গ্রাম গাজিয়াবাদের মুরাদনগর এলাকার বসন্তপুর সেন্টলির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পরে সাই উপবন এলাকায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল। সেখান থেকে বিভিন্ন নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
গাজিয়াবাদ সিটি জোনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ধবল জয়সওয়াল জানান, শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা নাগাদ সাই কুঞ্জ এলাকায় একটি দেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, “মৃতের পরিচয় চিরাগ ত্যাগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তিনি একজন প্যারা-অ্যাথলিট ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি খুন বলে মনে হচ্ছে।”
কোটওয়ালি থানার স্টেশন হাউস অফিসার শচীন কুমার জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় চিরাগের পিঠে ছিদ্রের মতো একটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। সেটি আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র নাকি অন্য কোনও বস্তুর আঘাতে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর শরীরে আরও কিছু আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বা আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
চিরাগ ত্যাগীকে ভারতের উদীয়মান প্যারা-অ্যাথলিটদের মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হত। মুরাদনগরের বসন্তপুর সেন্টলি গ্রামের বাসিন্দা চিরাগ তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন।
তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়াম-এর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে থেকে অনুশীলন করতেন। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় প্রতিযোগিতায় ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিলেন।
শুধু তাই নয়, আগামী অক্টোবর মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়ান প্যারা গেমসেও অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন তিনি। ফলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু প্যারা-ক্রীড়া জগতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ফরেনসিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চিরাগের ঘনিষ্ঠজন ও পরিচিতদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে তাঁর গতিবিধি খতিয়ে দেখে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা এর সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



















