কলকাতা, ৩১ মে (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী-এর উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, একদল বিক্ষোভকারী তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটের টুকরো ছুড়ে মারে। পাশাপাশি ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃত কর্মীর বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভকারীরা হেনস্তা করে। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতিতেও কয়েকজন তাঁর দিকে ঘুষি মারার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরই তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর তদন্তে নেমে পুলিশ রাতভর তল্লাশি অভিযান চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ছয়জন স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার সময় তাঁদের ঘটনাস্থলে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “রাতভর তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।”
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলায় আর কারা জড়িত ছিল, সেই তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশি নিরাপত্তায় এলাকা ছাড়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, তাঁকে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। পরে মিন্টো পার্ক এলাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালেও একই মত দেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালে অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “এই মুহূর্তে বাড়িতেই চিকিৎসা চলবে। প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও অক্সিজেন বাড়িতেই দেওয়া হবে। দরকার হলে অভিষেককে চিকিৎসার জন্য হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হবে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



















