কলকাতা, ৩১ মে (আইএএনএস): আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি-র কলকাতা সফরকে ঘিরে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রাক্তন রাজ্য ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-এর বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসির অনুষ্ঠানটির প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত ১৭ মে অভিযোগ দায়ের করার পর শনিবার রাতে ওই এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩(৫), ৩০৮(২), ৩১৮(৪), ৩৫১(২) এবং ৬১(২) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারাগুলি টিকিট কালোবাজারি, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভয় প্রদর্শন, প্রতারণা-সহ বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। পুলিশ সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
শনিবার গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে শতদ্রু দত্ত লেখেন, “সত্যমেব জয়তে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, ক্রীড়ামন্ত্রী এবং ডিজিপিকে ধন্যবাদ।”
অভিযোগে শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, মেসির অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারিতে বিক্রি করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস জড়িত ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, নতুন রাজ্য সরকার গঠনের পর বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিসিথ প্রামানিক মেসি-সফর সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলার ঘটনার ফাইল পুনরায় খোলার কথা ঘোষণা করেছিলেন।
শতদ্রু দত্ত অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠানের দিন অরূপ বিশ্বাস তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়ে অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেন এবং নিরাপত্তা বলয় ভেঙে মেসির কাছে পৌঁছে যান। তাঁর দাবি, এর ফলে মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং পুরো অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যায়।
দত্ত আরও অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কাউন্সিলর জুই বিশ্বাস এবং তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার-ও এই ঘটনায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত নিরাপত্তা এলাকায় বেআইনি প্রবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভাঙন, মেসির নিরাপত্তা বিপন্ন করা এবং অনুষ্ঠান ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। মেসি মাঠে প্রবেশ করার পর তাঁকে ঘিরে ধরেন বহু মানুষ। ছবি তোলার হুড়োহুড়িতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দর্শকদের অভিযোগ ছিল, অধিকাংশই তাঁদের প্রিয় ফুটবলারকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই মেসি মাঠ ছেড়ে চলে যান।
এরপরই স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু হয়। গ্যালারি থেকে মাঠে চেয়ার ও বোতল ছোড়া হয়, বহু দর্শক নিরাপত্তা বলয় ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন। গ্যালারি ও শৌচাগারেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর রাজ্য সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই সময় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি দীর্ঘ ৩৭ দিন কারাবন্দি থাকার পর আদালত থেকে জামিন পান।
এই ঘটনায় নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।



















