নয়াদিল্লি, ৩০ মে (আইএএনএস): গোয়া রাজ্যত্ব দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজ্যের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে। একই সঙ্গে তিনি গোয়ার শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। এদিন তিনি প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী-র অবদানের কথাও স্মরণ করেন, যার নেতৃত্বে গোয়া পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করেছিল।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ খাড়গে লেখেন, “গোয়া রাজ্যত্ব দিবসে রাজ্যের সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাণবন্ত সংস্কৃতির জন্য গোয়া আজও সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতির উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯৮৭ সালের এই দিনেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে গোয়া ভারতের প্রজাতন্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা অর্জন করে। গোয়ার শান্তি, সমৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”
কংগ্রেসও তাদের ‘এক্স’ পোস্টে জানায়, “গোয়া রাজ্যত্ব দিবসে আমরা রাজ্যের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে উদযাপন করছি। কংগ্রেস পরিবার গোয়ার জনগণকে স্যালুট জানায় এবং সম্প্রীতি, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও গোয়ার স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।”
অন্যদিকে, গোয়া প্রদেশ কংগ্রেসও রাজ্যের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছে, “১৯৮৭ সালের এই ঐতিহাসিক দিনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে গোয়া রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে এবং ভারতের একটি গর্বিত অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়। আসুন, আমরা গোয়ার স্বতন্ত্র পরিচয়, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ধারাবাহিক অগ্রগতিকে উদযাপন করি।”
এবারের রাজ্যত্ব দিবস উদযাপনের মধ্য দিয়ে গোয়া একদিকে যেমন তার ঐতিহাসিক যাত্রাপথের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাকেও মূল্যায়ন করছে। ১৯৬১ সালে মুক্তির পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ১৯৮৭ সালে ভারতের ২৫তম রাজ্যে পরিণত হওয়ার পেছনে ছিল গোয়ার স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা।
বর্তমানে উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে গোয়া দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজ্য। মাথাপিছু আয়ের নিরিখে এটি দেশের প্রথম সারিতে রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষার হার এবং পর্যটন অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও রাজ্যটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও গোয়ার পরিচিতি রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। অটল সেতু, নতুন জুয়ারি সেতু, মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী উড়ালপথ এবং বর্তমানে নির্মীয়মাণ পোরভোরিমের এলিভেটেড হাইওয়ে গোয়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
তবে দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলিও রাজ্যের সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবুও রাজ্যত্বের প্রায় চার দশক পর গোয়া আজও উন্নয়ন, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যের এক অনন্য মেলবন্ধনের উদাহরণ হয়ে রয়েছে।



















