কলকাতা, ২৯ মে (আইএএনএস) : অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর মামলায় গ্রেপ্তার-সহ কোনও রকম কড়া পুলিশি পদক্ষেপে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
গত সপ্তাহে কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের অন্তর্গত গড়িয়াহাট থানায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ, তিনি একটি “উস্কানিমূলক” সামাজিক মাধ্যম পোস্ট করেছিলেন এবং ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এই এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে গত ২৭ মে কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন করেন অভিনেতা।
শুক্রবার দুপুরে মামলার শুনানি হয় এবং শুনানি শেষে বিচারপতি মুখোপাধ্যায় পরমব্রতকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেন। ফলে আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ কোনও জোরদার পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে এবং তদন্তে পরমব্রতকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে পরবর্তী শুনানির দিনে মামলার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই মামলাটি দায়ের হয় আইনজীবী জয়দীপ সেনের অভিযোগের ভিত্তিতে। একই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়াত বাংলা অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়ের কন্যা অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ, তিনি ওই বিতর্কিত সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে সমর্থন করেছিলেন।
যদিও স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের নোটিসের জবাব দিয়ে গত ২৩ মে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দেন, পরমব্রত তা করেননি।
পরিবর্তে তিনি এফআইআর খারিজের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
উল্লেখ্য, বুধবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ও।
সেই বৈঠকে অভিনেতা দাবি করেন, প্রাক্তন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের চাপে পড়ে তাঁকে আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করতে হয়েছিল।
পরমব্রত বলেন, “সেদিন সদ্যোজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সব করেছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না। আমি এখানে কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে আসিনি। তবে আপনাদের পরিবারের সদস্য মনে করেই ব্যক্তিগত অপমানের কথা বললাম। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়।”
এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বহু মানুষ অভিনেতাকে “রং বদলানোর” অভিযোগে সমালোচনা করেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।



















