আগরতলা, ২৮ মে : উদয়পুর মহকুমা শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে চুরির ঘটনা। একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক অনটন কিংবা নেশার টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে অনেকেই অপরাধের পথে ঝুঁকছে। পাশাপাশি চুরির ঘটনার পর পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাকড়াবন থানার পুলিশ চোরদের পাকড়াও করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে চোরের দল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারি অফিস, বিদ্যালয় থেকে সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি, কোথাও নিরাপত্তা নেই বলেই দাবি স্থানীয়দের।
এরই মধ্যে বুধবার গভীর রাতে কাকড়াবন থানাধীন জামজুরী রাজধনগর এলাকায় ঘটে যায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা। জানা গেছে, জনৈক সুখেন সূত্রধরের বসতবাড়িতে চোরেরা হানা দেয়। সুখেন সূত্রধর টিএসআর জওয়ান হিসেবে অমরপুরে কর্মরত থাকায় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে, তার স্ত্রী ও সন্তানও সেদিন শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগকেই কাজে লাগায় দুষ্কৃতিকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চোরেরা বাড়ির পাশের একটি আমগাছ বেয়ে ছাদে উঠে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ঠাকুরঘরে ঢুকে আনুমানিক ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, পিতলের বাসনপত্র এবং একটি মাটির ব্যাংক থেকে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
ঘটনার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে প্রতিবেশী রতন সূত্রধরের। তিনি নিজের বাড়ির ছাদ থেকে সুখেন সূত্রধরের বাড়ির ছাদের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সুখেন সূত্রধরকে জানান। খবর পেয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরে এসে চুরির ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন।
পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাকড়াবন থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, এই ঘটনারও কি সঠিক তদন্ত হবে, নাকি অন্যান্য ঘটনার মতোই তা ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকবে? এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চোরদের গ্রেফতার করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এখন দেখার বিষয়, কাকড়াবন থানার পুলিশ এই ঘটনায় কতটা সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয় কিনা।



















