গুয়াহাটি, ১৪ মে (আইএএনএস): অসমে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার বিরোধিতা কংগ্রেস শুধুমাত্র “ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির” স্বার্থে করছে বলে বৃহস্পতিবার অভিযোগ করলেন অসম বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া। তিনি দাবি করেন, এই আইন কোনও সম্প্রদায়ের ক্ষতি করবে না, বরং সমতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করবে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ সাইকিয়া জানান, অসমে ইউসিসি কার্যকর করার উদ্যোগকে বিজেপির রাজ্য কমিটি স্বাগত জানিয়েছে এবং এই পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই মুখ্যমন্ত্রী অসমে ইউসিসি আনার কথা বলেছিলেন এবং এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল “এক দেশ, এক আইন” প্রতিষ্ঠা করা।
সাইকিয়া বলেন, ইউসিসি বর্তমান সময়ের প্রয়োজন। এটি দেশে ঐক্য, সমতা এবং লিঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। এই আইন কারও ক্ষতি করবে না এবং সমাজের কোনও অংশের বিরুদ্ধে নিপীড়নের কারণ হবে না। উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি কার্যকর হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অসম বিজেপি সভাপতি দাবি করেন, সেখানে আইন চালুর পর কোনও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এবং কয়েকজন বিরোধী নেতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইউসিসি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। সাইকিয়া বলেন, কংগ্রেস নেতারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করতে চাইছেন। তাঁদের রাজনীতি তোষণ, ভোটব্যাঙ্কের হিসাব এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরির উপর ভিত্তি করে।
প্রথমে কোনও নেতার নাম উল্লেখ না করলেও পরে তিনি অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে ইউসিসির তীব্র বিরোধিতার জন্য সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, অসমের মানুষ ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের “বিভাজনের রাজনীতি” প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বিরোধী দল রাজ্যের ভোটারদের মানসিক পরিবর্তন বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাইকিয়া আরও জানান, বিজেপি ইউসিসির পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাবে এবং এই আইন দেশ ও অসমীয়া সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে বলে দাবি করবে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন যে আগামী ২১ মে থেকে শুরু হওয়া বিধানসভার অধিবেশনেই অসমে ইউসিসি কার্যকর করার প্রস্তাব আনা হবে।



















