Artificial cow breeding is increasing : রাজ্যে কৃত্রিম গো-প্রজননে গাভীর সংখ্যা বাড়ছে : প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প রূপায়ণে সাফল্য আসছে৷ কৃত্রিম গো-প্রজননে গাভীর সংখ্যা বাড়ছে৷ এই প্রকল্পে রাজ্যে চলতি অর্থবছরে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডোজ হিমায়িত বীর্যের মাধ্যমে কৃত্রিম গো-প্রজননের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩০,৫৯৭টি কৃত্রিম গো-প্রজনন করানো হয়েছে৷ আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী ভগবান দাস এই সংবাদ জানান৷ সাংবাদিক সম্মেলনে দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যগুলি তুলে ধরেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী৷ তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যকে দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য৷ এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ এই প্রকল্পে সেক্স সর্টেড সিমেন পদ্ধতির মাধ্যমে স্ত্রী বাছুরের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই অন্যতম লক্ষ্য৷ মুখ্যমন্ত্রী উন্নত গোধন প্রকল্প রূপায়ণে ১৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হবে৷ ইতিমধ্যেই প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরকে এই প্রকল্পে ৪ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে৷ এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ এই তিন অর্থবছরে মোট ৩ লক্ষ ২২ হাজার ডোজ হিমায়িত বীর্যের মাধ্যমে কৃত্রিম গো-প্রজনন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১৬৩টি বাছুরের জন্ম হয়েছে৷ এরমধ্যে ১৫৮টি স্ত্রী বাছুর হয়েছে, সাফল্যের হার প্রায় ৯৭ শতাংশ৷


সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী জানান, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার জনগণকে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনা নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে৷ এই প্রকল্পে চলতি অর্থবছরে ৩০ হাজার ৬০টি পরিবারকে মোরগ পালনে, ৫,৮০০টি পরিবারকে শূকর পালনে এবং ২৯০০টি পরিবারকে ছাগল পালনে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ আগস্ট মাস পর্যন্ত ২,৭৯৮টি পরিবারকে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷ প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী জানান, ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশন প্রকল্পে ৫ কোটি ৫ লক্ষ টাকার মঞ্জুরি পাওয়া গেছে৷ এই প্রকল্পে ৫৮০টি পরিবারকে শূকর ও ৫৮০টি পরিবারকে ছাগল পালনে সহায়তা দেওয়া হবে৷


সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, বনাধিকার আইনে পাট্টা প্রাপক ১,৫০০টি পরিবারকে উন্নত প্রজাতির শূকর পালনে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ এজন্য ব্যয় হবে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা৷ ইতিমধ্যেই ৩৪৫টি পরিবারকে উন্নত প্রজাতির শূকর দেওয়া হয়েছে৷ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে সিপাহীজলা জেলার আমতলিতে একটি নতুন শূকর পালন খামার গড়ে তোলা হবে৷ এজন্য ২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে৷ তাছাড়াও বর্তমান অর্থবছরে ঊনকোটি জেলায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি নতুন হাঁস পালন খামার গড়ে তোলা হবে৷


সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থানুকূল্যে রাজ্যে ১টি তরল নাইট্রোজেন প্ল্যান্ট এবং ১টি কৃত্রিম গো-প্রজনন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে৷ এজন্য ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৫ লক্ষ টাকা৷ তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় মেলাঘরের রুদিজলার আশেপাশের একহাজার পরিবারকে হাঁস পালনে সহায়তা করা হয়েছে৷ এজন্য ২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে৷ সহায়তা প্রাপক বেশিরভাগ পরিবার বর্তমানে মাসিক ৭ হাজার টাকা রোজগার করছেন বলে মন্ত্রী জানান৷ তিনি আরও জানান, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সন্ত্রাসবাদী পথ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ৯৫০ জনকে প্রাণী পালনে সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের রাষ্ট্রীয় গোকূল মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে কৃত্রিম গো-প্রজননের কাজ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়া চলছে৷