Work in mission mode to provide drinking water : বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ প্রদানে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরকে মিশন মুডে কাজ করতে হবে : পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ সেপ্ঢেম্বর৷৷রাজ্যে বাড়ি বাড়ি পানীয়জলের সংযোগ প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে৷ এই কাজে কোনও ধরনের অনিয়মকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না৷ বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ প্রদানে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরকে মিশন মুডে কাজ করতে হবে৷ আজ অরুন্ধতীনগরের সিপার্ডে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধন করে একথা বলেন পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি মন্ত্রী সুুশান্ত চৌধুরী৷ তিনি বলেন, মিশন মুডে কাজ করলে সাফল্য অবশ্যই আসবে৷ আগামী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র রাজ্যে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রত পানীয়জল সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ এজন্য অর্থের কোনও সমস্যা নেই৷ এখন প্রত্যেকটি জেলায় জেলায় এবং গ্রামে গ্রামে পানীয়জলের সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে৷ আগামীতে স্বচ্ছতা ও বাড়ি বাড়ি পানীয়জল সংযোগে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যাতে রাজ্য পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর সেরা পুরস্কার আনতে পারে তারজন্য কাজ করে যেতে হবে৷ রাজ্য সরকারের পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল কি রিসোর্স সেন্টার (স্যানিটেশন), কলকাতা নরেন্দ্রপুর রামক’ষ্ণ মিশন লোকশিক্ষা পরিষদের সহায়তায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়৷ কর্মশালার বিষয়বস্তু ছিলো স্বচ্ছ ভারত মিশন-গ্রামীণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতি, কৌশল, কর্মসূচি প্রণয়ন ও গ্রহণ৷


কর্মশালার উদ্বোধন করে পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি মন্ত্রী সুুশান্ত চৌধুরী বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে শুরু হয় স্বচ্ছ ভারত মিশনের৷ জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বচ্ছ ভারত গঠনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী৷ আগে ছিলো নির্মল ভারত৷ তাতে আরও পরিবর্তন এনে স্বচ্ছ ভারত অভিযান নাম দেওয়া হয়৷ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সহায়তায় রাজ্যে স্বচ্ছ ভারত মিশন গ্রামীণ এলাকায় দারুণ সাফল্য এসেছে৷ যার ফলে দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার৷ প্রথম ধাপে রাজ্যের প্রতিটি প’ায়েত, ব্লক, জেলায় জেলায় প্রচুর টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে৷ এতে জীবন জীবিকা নির্বাহের রাস্তা খুঁজে পেয়েছে গ্রামীণ অংশের জনসাধারণ৷ পরিসংখ্যান তুলে ধরে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি মন্ত্রী শ্রী চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা ধার্য করেছে৷ ১০ কোটি শৌচালয় এই মিশনের মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে৷ যাতে স্বচ্ছ ভারত মিশন সফল করা যায়৷ মিশন ওয়ানে রাজ্যে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৫৪টি শৌচালয় নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিলো৷ ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২২ হাজার ২০৬টি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে৷ তার উপর ভিত্তি করে ২০১৯ সালে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকা উন্মক্ত শৌচহীন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷ এটা রাজ্যের জনসাধারণের এক বড় সাফল্য৷ এই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে৷


অনুষ্ঠানে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধি মন্ত্রী সুুশান্ত চৌধুরী আরও বলেন, রাজ্যে করোনা অতিমারীর সময়েও বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদানে উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে সরকার৷ রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় কোভিড ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে৷ এই কর্মসূচিতে দেশের মধ্যে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে ত্রিপুরা৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুখ্যসচিব কুমার অলোক বলেন, স্বচ্ছ ভারত কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রত্যেককেই আন্তরিকভাবে এবং নিষ্ঠা সহকারে এগিয়ে আসতে হবে৷ এই প্রসঙ্গে তিনি নরেন্দ্রপুর রামক’ষ্ণ মিশনের সামাজিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন৷ মুখ্যসচিব বলেন, এই কর্মশালা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী৷ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন বিষয়ে মানুষকে সঠিকভাবে বুঝাতে হবে৷ বিশেষ করে স্বচ্ছতা মানব স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপযোগী সেই বিষয়টি সম্পর্কে আরও সচেতন করতে হবে৷ এক্ষেত্রে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে আরও অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি৷ প্রত্যেক জেলা ও ব্লকের মধ্যে সমন্বয় রেখে জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন মুখ্যসচিব৷

অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নিয়ে পূর্ত দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, গ্রামীণ এলাকাগুলিতে স্যানিটেশনের সুুযোগ পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য৷ এতে গ্রামীণ অংশের মানুষ শারীরিক দিক থেকে লাভবান হবেন৷ এবছর ৩৫০টি গ্রাম প’ায়েত ও ভিলেজ কমিটিতে এই কর্মসূচি রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ পাশাপাশি স্বচ্ছতা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি৷ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্রপুর রামক’ষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী সর্বালোকানন্দ মহারাজ বলেন, মানুষের কাছে আরও বেশি করে স্বচ্ছতাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে৷ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেই স্বচ্ছতা নিয়ে সফলতা আসবে৷ শৌচালয় রক্ষণাবেক্ষণ প্রত্যেকেরই একটা অন্যতম দায়িত্ব৷ দেশে যে স্বচ্ছতা মিশন শুরু হয়েছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে৷ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিলেন সুকল অব ওয়াটার রিসোর্স ইি’নিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অরুণাভ মজমদার, ন্যাশনাল কি রিসোর্স সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর চণ্ডি সি দে, পূর্ত দপ্তরের পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তরের চিফ ইি’নিয়ার রাজীব দেববর্মা ও অধিকর্তা রাজীব মজমদার৷