মুম্বই, ১৫ জুন (আইএএনএস): কুখ্যাত মাদক পাচারকারী সেলিম ডোলা জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তদন্তকারীদের দাবি, পলাতক আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ডোলা মাদক ব্যবসার অর্থে দুবাই ও তুরস্কে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন।
তুরস্ক থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ভারতে আনা হওয়ার পর নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর (এনসিবি) জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। বর্তমানে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিভিন্ন ইউনিট একাধিক মামলায় তাঁকে জেরা করছে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চ সূত্রে খবর, কোভিড-১৯ মহামারির পর মুম্বইয়ে ডোলা তাঁর মাদক পাচার চক্র ও নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছিলেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, তিনি তুরস্কে ‘আয়হান শেখ’ নামে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করতেন এবং সেখান থেকেই একটি বৃহৎ মাদক চক্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, মাদক পাচার থেকে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ডোলা দুবাই ও তুরস্কে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তোলেন। তাঁর বিদেশি বিনিয়োগ, সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনের পরিধি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডোলা সাংলিতে অবস্থিত একটি বড় সিন্থেটিক মাদক তৈরির কারখানা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। সূত্রের খবর, ওই কারখানায় প্রায় ২০টি চালানে এমডি (মেফেড্রোন) মাদক তৈরি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
ডোলার দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পাশাপাশি মাদক সরবরাহ চক্র, বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, ডোলা দাবি করেছেন যে মাদক ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ দেশের ভিতরে এবং বিদেশে বিভিন্ন সম্পত্তি ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কোন কোন সম্পত্তি ও বাণিজ্যিক উদ্যোগে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডোলা আরও দাবি করেন, এই মাদক চক্রের সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্কের যোগসূত্র ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে, এই দাবি এখনও যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্য সদস্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং কারা এই নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সাহায্য করেছে, তা-ও খুঁজে দেখা হচ্ছে।
সাতারা ও মহীশূরের মাদক কারখানা-সংক্রান্ত তদন্তসহ একাধিক মামলায় ইতিমধ্যেই ডোলাকে জেরা করেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিভিন্ন দল।
এদিকে, অন্ধেরির ব্যবসায়ী সাজিদ ইলেকট্রিকওয়ালাকে অপহরণ ও তোলাবাজির মামলায় ডোলার সম্ভাব্য জড়িত থাকার অভিযোগও পৃথকভাবে তদন্ত করছে ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইউনিট-৩।
জেরার সময় ডোলা দাবি করেছেন যে দুবাইয়ে কেনা কিছু সম্পত্তি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সম্পদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
সোমবার ডোলার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এরপর তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, আরও জিজ্ঞাসাবাদে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র, আর্থিক লেনদেন, বিদেশি সম্পত্তি এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
_______



















