নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): দেশে আরও বেশি বিদেশি পুঁজি আকৃষ্ট করতে কেন্দ্র সরকার শীঘ্রই নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি বলেন, বন্ড বাজার সংক্রান্ত যে উদ্যোগগুলি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে, তা কেবলমাত্র শুরু।
সোমবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হিরো মাইন্ডমাইন সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা উপলব্ধি করছি যে দেশে আরও বেশি বিদেশি পুঁজির প্রয়োজন। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও ব্যাঙ্কগুলিকে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে। তবে এটিই শেষ কথা নয়, আমরা আরও পদক্ষেপ নেব।”
তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে বাজারে প্রয়োজনীয় মূলধনের জোগান নিশ্চিত করা যায়।
সীতারামনের মতে, বিদেশি পুঁজি গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের বন্ড বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা মূলত সরকারি সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেই এই সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকবে না। আমরা জানি, দেশের উন্নয়নের জন্য আরও বিদেশি পুঁজির প্রয়োজন।”
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে যথেষ্ট শক্তিশালী রাখতে হবে। দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার এবং বাড়তে থাকা ভোগব্যয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের জন্য ভারত এখনও আমদানির উপর নির্ভরশীল।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কনীতি, পণ্যমূল্যের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মতো নানা অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিমা ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ভারতের আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সীতারামন বলেন, “শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিমা ব্যয় ও ঝুঁকিও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বজায় রাখা জরুরি।”
সারের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর থেকে বিশ্ববাজারে একাধিকবার সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। কিছু দেশ অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়াতে রফতানি কমিয়ে দেওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হলেও, প্রায় এক বছর পর চিন ফের রফতানি বাজারে ফিরে আসায় সেই উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
ডেটা সেন্টার এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) ক্ষেত্রেও ভারতের দ্রুত অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, একসময় বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এবং দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকা এই শিল্প এখন তুমাকুরু ও মঙ্গলুরুর মতো দ্বিতীয় সারির শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে, তথ্য সুরক্ষা আরও মজবুত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তিনি জানান, কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ডেটা সেন্টার ও জিসিসি নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করছে।
সীতারামনের কথায়, “মানুষ আর এটাকে নতুন বা অপরিচিত ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে না। ভারতের তরুণ প্রজন্ম ও প্রযুক্তিবিদরা খুব দ্রুত এই খাতের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন রাজ্য সরকার শুধু নীতি প্রণয়নেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেটা সেন্টার ও জিসিসি প্রকল্প আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।



















