নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): দেশের তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবকদের আনুষ্ঠানিক উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে নির্বিঘ্নে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) ড. জিতেন্দ্র সিং। শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ভবন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত ‘গ্রাসরুটস ইনোভেটর রিকগনিশন সেরিমনি ২০২৬’-এ তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সহায়ক প্রযুক্তি, জল ব্যবস্থাপনা, সার্কুলার অর্থনীতি এবং টেকসই জীবিকার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী, ব্যবহারিক ও সমাজভিত্তিক সমাধান উদ্ভাবনের জন্য ২৬ জন তৃণমূল উদ্ভাবককে সম্মানিত করা হয়।
ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ভারতের আগামী উন্নয়নের বড় ধাপ কেবল গবেষণাগার বা বড় শহর থেকে নয়, বরং গ্রাম, ছোট শহর এবং তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবকদের হাত ধরেই আসবে। তিনি বলেন, উদ্ভাবনকে শুধু স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈজ্ঞানিক যাচাই, প্রযুক্তি রূপান্তর, ইনকিউবেশন এবং বাজারে প্রয়োগের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অটল ইনোভেশন মিশন (এআইএম)-এর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা তৃণমূল উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের ‘ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপিং অ্যান্ড হারনেসিং ইনোভেশনস’ (নিধি)-এর আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। এর ফলে উদ্ভাবকেরা টেকনোলজি বিজনেস ইনকিউবেটর, সেন্টার অব এক্সেলেন্স, প্রোটোটাইপ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক যাচাই, মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত সহায়তা, পণ্য পরীক্ষণ, সার্টিফিকেশন, উৎপাদন সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং বাজার সংযোগের সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্যোগের সুযোগকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে কেন্দ্র সরকার উদ্ভাবনকে একটি সর্বভারতীয় আন্দোলনে পরিণত করেছে। অটল ইনোভেশন মিশনের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ, আদিবাসী, পাহাড়ি, উপকূলীয়, প্রত্যন্ত এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী অঞ্চলের প্রতিভাবান উদ্ভাবকেরাও আজ দেশের উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে ভারতে ২.৪ লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ রয়েছে, যা দেশকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত করেছে। মানুষের পরিশ্রম কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় স্তরে টেকসই উদ্যোগ গড়ে তোলার মতো উদ্ভাবনই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রকৃত প্রতিফলন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ড. জিতেন্দ্র সিং আরও জানান, দেশে ইতিমধ্যেই ২৫টি অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টার (এসিআইসি) চালু হয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ২,৫০০-রও বেশি তৃণমূল উদ্ভাবক সহায়তা পেয়েছেন। পাশাপাশি আরও ২৫টি কেন্দ্র স্থাপনের কাজও চলছে।



















