রাষ্ট্রসংঘ, ১৬ জুন (আইএএনএস): রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-এর সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনায় শুধুমাত্র অস্থায়ী সদস্যপদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবকে কার্যত নাকচ করে দিল ভারত। ভারতের মতে, স্থায়ী সদস্যপদের সম্প্রসারণ ছাড়া যে কোনও সংস্কার উদ্যোগ “ব্যর্থতার কাছাকাছি” বলে বিবেচিত হবে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি. হরিশ সোমবার আন্তঃসরকারি আলোচনায় (আইজিএন) বলেন, শুধুমাত্র অস্থায়ী সদস্যপদ বাড়ানো হলে বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (পি৫) ক্ষমতার কাঠামোতে কোনও মৌলিক পরিবর্তন আসবে না।
বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হল যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র।
হরিশ বলেন, “সদস্য রাষ্ট্রগুলি দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত ও অর্থবহ সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে। শুধুমাত্র অস্থায়ী সদস্যপদের সম্প্রসারণে সীমাবদ্ধ থাকলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার অত্যন্ত অপর্যাপ্ত হবে এবং তা ব্যর্থতার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, ভারতের দীর্ঘদিনের দাবি হল স্থায়ী সদস্যপদের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে ভারসাম্য ও ন্যায্যতা বৃদ্ধি করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে P5 গোষ্ঠীর একচেটিয়া প্রভাব কমানো।
ইতালির নেতৃত্বাধীন ১২ সদস্যের গোষ্ঠী ঐকমত্যের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া (ইউএফসি), যার সদস্যদের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে, নতুন স্থায়ী সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। ভারতের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত কৌশল ব্যবহার করে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ধীর করার চেষ্টা করছে।
হরিশ নাম উল্লেখ না করেই বলেন, “যতক্ষণ না সব বিষয়ে ঐকমত্য হচ্ছে, ততক্ষণ কোনও বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে না— এই ধরনের অবস্থানকে অগ্রগতি রোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রসংঘের অন্যান্য প্রক্রিয়ার মতো নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার সম্পর্কিত আলোচনাও একটি নির্দিষ্ট খসড়া পাঠ্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তাই আলোচনার সহ-সভাপতিদের স্পষ্ট সময়সীমা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি আলোচনাপত্র তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রসংঘ সনদের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, সনদের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের স্পষ্টভাবে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে— স্থায়ী ও অস্থায়ী। ফলে “স্থায়ী সদস্যপদ” বলতে কী বোঝায়, তা নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যার কোনও প্রয়োজন নেই।
তিনি সহ-সভাপতিদের প্রস্তুত করা তথাকথিত “এলিমেন্টস পেপার”-এরও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, ওই নথিতে স্থায়ী সদস্যপদের ধারণা নিয়ে আরও আলোচনা ও ব্যাখ্যার কথা বলা হয়েছে, অথচ রাষ্ট্রসংঘের সনদ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ স্পষ্ট এবং সেখানে কোনও অস্পষ্টতার অবকাশ নেই।
হরিশ আরও বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রকৃত গণতান্ত্রিক নীতির প্রতিফলন ঘটালেও নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে তা অনেকটাই অচল ও যুগোপযোগিতা হারিয়েছে।



















