ইম্ফল, ১৫ জুন (আইএএনএস): মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় কুকি অধ্যুষিত লেইলোন ভাইফেই গ্রামে সোমবার অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইম্ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনও সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
কুকি সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন কুকি ইনপি মণিপুর (কেআইএম) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
কেআইএম-এর তথ্য ও প্রচার সম্পাদক জাংহাওলুন হাওকিপ অভিযোগ করেন, এনএসসিএন-আইএম এবং তাদের সহযোগী সংগঠন জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট (কামসন) বা জেডইউএফ-কে-র জঙ্গিরাই লেইলোন ভাইফেই গ্রামে বোমা হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে হাওকিপ বলেন, “এই সহিংস হামলা আবারও নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে, সম্পত্তির ক্ষতি করেছে এবং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তাকে ধ্বংস করেছে। বেসামরিক এলাকায় এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য, অমানবিক এবং আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, লেইলোন ভাইফেই এবং আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের ক্রমাগত আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে, অথচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি কার্যত বাধাহীনভাবে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
হাওকিপ প্রশ্ন তোলেন, “যারা সন্ত্রাস, নিরাপত্তাহীনতা এবং ধ্বংসযজ্ঞ ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী আর কতদিন নমনীয় অবস্থান নেবে? নীরবতা, বিলম্ব বা নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অবিশ্বাস বাড়াবে।”
সংগঠনটির দাবি, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কাংপোকপি জেলা গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরের অন্যতম অশান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে একাধিক সহিংস ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
গত ১৩ মে কাংপোকপিতে তিনজন চার্চ নেতার নিহত হওয়া এবং চারজন আহত হওয়ার ঘটনার পর কাংপোকপি ও সেনাপতি জেলায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী অন্তত ৫০ জন কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের মানুষকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রশাসন, সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রচেষ্টায় ১৪ ও ১৫ মে মোট ৩০ জনকে মুক্ত করা হয়। পরে ৯ জুন প্রায় চার সপ্তাহ বন্দিদশায় থাকার পর কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত বাকি ১৪ জন জিম্মিও মুক্তি পান।
তবে নিখোঁজ ছয়জন নাগা ব্যক্তির বিকৃতদেহ ১০ জুন কাংপোকপির খারাম ভাইফেই গ্রামের কাছে একটি জঙ্গল এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়ায় নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
























