শিলং, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): মেঘালয় বিধানসভার পাবলিক আন্ডারটেকিংস কমিটি (সিওপিইউ) প্রায় ২৯ কোটি টাকার বকেয়া ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রের দুটি গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি)-এর রিপোর্টে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে বিদ্যুৎ দফতরের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিটি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মেঘালয়ের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান সিএমজে ব্রুয়ারিজ প্রাইভেট লিমিটেড, যার কারখানা বাইরনিহাটে অবস্থিত, মেঘালয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এমআইডিসি)-এর কাছ থেকে ৬১.৯৪ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। সংস্থাটি এখনও পর্যন্ত ২৩.৯৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে, তবে প্রায় ২৯ কোটি টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে।
আগস্ট ২০২৬-এ ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তার আগে এমআইডিসি বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সিওপিইউ ঋণ পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে এবং বকেয়া পুরোপুরি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তাদের নজরদারিতে থাকবে বলে জানিয়েছে।
বিধায়ক চার্লস মারঙ্গারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি সংস্থাগুলির আর্থিক কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সৌভাগ্য (SAUBHAGYA) এবং দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রাম জ্যোতি যোজনা (ডিডিইউজিজেওয়াই) প্রকল্প সংক্রান্ত সিএজি-র নিরীক্ষা রিপোর্টও খতিয়ে দেখা হয়।
বৈঠকে গ্রেস্টোন স্মেল্টার্স এবং গ্রেস্টোন স্ট্রিপস লিমিটেডের ঋণের বিষয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এমআইডিসি-র পরিচালন পর্ষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে ওই দুই সংস্থার ঋণ হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হিসাব থেকে ঋণ বাদ দেওয়ার অর্থ ঋণ মকুব নয়। তাই বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে এবং দুই সংস্থাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অরা হোটেলস অ্যান্ড রিসর্টস প্রাইভেট লিমিটেড তাদের ৫১ কোটি টাকার ঋণ সম্পূর্ণ শোধ করেছে বলে কমিটিকে জানানো হয়। এছাড়া মাওইয়ং রিম এলাকার বধোক নংমালিয়েহ ফোর্ড ডিলারের বকেয়া রি-ভোই জেলার কাওয়া সিং এলাকায় ৪৩.২২ লক্ষ বর্গফুট জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলেও জানানো হয়।
৩১ মার্চ ২০২২-এ শেষ হওয়া অর্থবর্ষের সিএজি রিপোর্ট পর্যালোচনার সময় কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সৌভাগ্য এবং ডিডিইউজিজেওয়াই প্রকল্পে বাধ্যতামূলক বিমা-সংক্রান্ত নথি যাচাই না করেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ দফতর কমিটিকে আশ্বাস দিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে দায় প্রমাণিত হবে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে এক মাসের মধ্যে বিস্তারিত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি।
এছাড়া মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বণ্টন ট্রান্সফরমারের ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ট্রান্সফরমারের মজুত রাখা এবং দ্রুত বিকল ট্রান্সফরমার বদলানোর জন্য বিদ্যুৎ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



















