গুয়াহাটি, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে চলমান অভিযানে ১৮ জন বিদেশি নাগরিককে ভারতে প্রবেশের আগেই আটকানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্তে ২৪ ঘণ্টাই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি লেখেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। ২৪ ঘণ্টা কঠোর পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হয়েছে। ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করা ১৮ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তবে ওই ১৮ জনকে ঠিক কোন এলাকা থেকে আটকানো হয়েছে, তাঁদের জাতীয়তা কী বা অভিযানের বিস্তারিত তথ্য মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ করেননি।
সাম্প্রতিক সময়ে অসমের আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে নিরাপত্তা বাহিনী নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে অসমের প্রায় ২৬৭.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা শ্রীভূমি, কাছাড়, ধুবরি এবং দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃসীমান্ত যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। ফলে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে।
অসমের শ্রীভূমি জেলার সুতারকান্দিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (আইসিপি) রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে থাকা তিনটি আইসিপির মধ্যে এটি একটি। বাকি দুটি রয়েছে মেঘালয়ের ডাউকি এবং ত্রিপুরার আখাউড়ায়। এছাড়া ভারত-ভুটান সীমান্তে অসমের দাররাঙায়ও একটি ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট রয়েছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। এরপর থেকে অসম পুলিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কাজ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নির্ধারিত বৈধ প্রবেশপথ দিয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
অসম সরকার বারবার জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


















