রোম, ২৯ মে (আইএএনএস) : ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব রুখতে ইউরোপের সীমান্ত নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানাল ইতালি। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দফতরের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল পাঠাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোমের স্পালাঞ্জানি সংক্রামক রোগ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত দলটি আগামী সপ্তাহান্তের মধ্যেই ডিআর কঙ্গোয় পৌঁছতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য হবে ইবোলার বিস্তার রোধ, ভাইরাস পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দফতর জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গো এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় সম্প্রতি বুন্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাস (বিভিডি স্ট্রেন)-এর প্রাদুর্ভাব মধ্য আফ্রিকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই পরিস্থিতির উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এই বিষয়টি নিয়ে মেলোনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের সভাপতি নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন ডার লেয়েনকে চিঠি লিখেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আক্রান্ত অঞ্চলগুলি থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইউরোপে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রে অভিন্ন নিয়মের ভিত্তিতে সীমান্ত নজরদারি ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইতালি।
জর্জিয়া মেলোনি আগামী ১৮ ও ১৯ জুন অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়টি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের একটি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজনের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে ফেরা যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে।
সরকারি বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ডিআর কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পাঠানো ইতালির বিশেষজ্ঞ দল চিকিৎসা সহায়তা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মহামারী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে বর্তমানে ৯০৬টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা রয়েছে, যার মধ্যে ২২৩ জনের মৃত্যুর তদন্ত চলছে। উগান্ডায় সাতটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ডিআর কঙ্গো থেকে ছড়িয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
হু শুক্রবার ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতির ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বলে ঘোষণা করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক স্তরে ঝুঁকি এখনও তুলনামূলকভাবে কম বলেই জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার হু আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও স্পষ্ট করেছে যে বর্তমান পরিস্থিতিকে এখনও ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। বর্তমানে বিরল বিভিডি স্ট্রেনের ইবোলার বিরুদ্ধে কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।



















