কোহিমা, ২২ মে (আইএএনএস): উত্তর-পূর্ব ভারতের উপজাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ, প্রচার এবং আধুনিক সমাজের প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলিকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানালেন নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল নন্দ কিশোর যাদব।
শুক্রবার নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত “উত্তর-পূর্ব ভারতের উপজাতীয় ঐতিহ্যের পুনর্মূল্যায়ন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণকে উন্নয়নের বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি এমন এক প্রয়াস, যার মাধ্যমে উন্নয়নকে সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই করা সম্ভব।
আদিবাসী সংস্কৃতি ও জ্ঞানব্যবস্থা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকার উপর জোর দিয়ে যাদব বলেন, নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা উৎসাহিত করা, স্থানীয় ভাষার প্রসার, আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং প্রাচীন জ্ঞানকে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের উপজাতি, ভাষা, রীতি-নীতি, সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থার বৈচিত্র্য অসাধারণ এবং এই ঐতিহ্য ভারতের সামগ্রিক সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অমূল্য অংশ।
দ্রুত বিশ্বায়ন, আধুনিকীকরণ, নগরায়ণ এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, বহু প্রথাগত প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক চর্চা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় ভাষার ব্যবহার ক্রমশ কমে যাচ্ছে, মৌখিক ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন প্রজন্ম নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উপজাতীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় গবেষণা, শিক্ষামূলক আলোচনা ও সেমিনারের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
রাজ্যপাল বলেন, উপজাতীয় সমাজের কাছে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই জীবনযাপন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের মতো বিষয়ে অসাধারণ ঐতিহ্যগত জ্ঞান রয়েছে।
তাঁর মতে, বর্তমান বিশ্বের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও সামাজিক সংহতির মতো নানা সমস্যার সমাধানে এই আদিবাসী জ্ঞানব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণেরও প্রশংসা করেন নন্দ কিশোর যাদব। তিনি বলেন, এই ধরনের বৌদ্ধিক বিনিময় উত্তর-পূর্ব ভারতের উপজাতীয় ঐতিহ্য, পরিচয় ও উন্নয়ন নিয়ে গভীরতর বোঝাপড়া এবং অর্থবহ নীতিগত আলোচনায় সহায়তা করে।
নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিয়েমা ক্যাম্পাসের স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড এডুকেশন এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোহিমা ক্যাম্পাসের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এন. ভেনুহ এবং উপাচার্য অধ্যাপক জগদীশ কুমার পট্টনায়ক-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, নাগাল্যান্ডের প্রায় ২০ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৮৬.৫ শতাংশেরও বেশি বিভিন্ন উপজাতীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্গত। ফলে রাজ্যে আদিবাসী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।



















