কলকাতা, ২২ মে (আইএএনএস): হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চলতে থাকা হকার উচ্ছেদ অভিযানে শুক্রবার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে অভিযানে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। শুক্রবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি ভট্টাচার্য জুন মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১০ জুন।
স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণে জানান, যেসব হকার উচ্ছেদের মুখে রয়েছেন বা ভবিষ্যতে উচ্ছেদের সম্মুখীন হতে পারেন, তাঁদেরও আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার ন্যায্য সুযোগ দেওয়া উচিত। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রাক্তন সিপিআই(এম) রাজ্যসভার সাংসদ এবং প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি আদালতে দাবি করেন, হকাররা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষকে ভাড়া দিয়ে দোকান চালান।
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, তাঁরা নিয়মিত ভাড়া দেন এবং সেই ভাড়ার রসিদও রয়েছে। মামলার আবেদনের সঙ্গে সেই রসিদ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, জিএসটি ও সার্ভিস ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ রেল কর্তৃপক্ষকেও এই বিষয়ে জানিয়েছিল। উচ্ছেদের জন্য রেল যে নোটিস দিয়েছে, তাতে কোনও স্বাক্ষর নেই। শুধু দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছিল, ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দেওয়া হয়নি। তাই আমার আবেদন, এই নোটিসগুলি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করা হোক।
শুনানির সময় বিচারপতি ভট্টাচার্য রেলের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, কোনও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এত দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে কি না। জবাবে রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৪ সালে চালু হওয়া ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য হাওড়া স্টেশনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, হকারদেরও নিজেদের বক্তব্য আদালতে উপস্থাপনের ন্যায্য সুযোগ পাওয়া উচিত।
এছাড়াও বিচারপতি ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, আগামী ১০ জুন পরবর্তী শুনানির দিন হুগলি রিভার ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধিকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।



















